রাজধানীর তুরাগের কামারপাড়ায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ সোনিয়া আক্তার (২৫) মারা গেছেন।
রোববার দুপুরে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান। তিনি জানান, সোনিয়ার শরীরের বেশিরভাগ অংশ ও শ্বাসনালী পুড়ে গিয়েছিল। তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এর আগে শুক্রবার ভোরে তুরাগের ১০ নম্বর সেক্টরের কবরস্থান রোডে মেম্বর বাড়ির পাশে আবুল কালামের একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
ঘটনায় দগ্ধ হন রুবেল (৩০), তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সোনিয়া আক্তার (২৫), তাদের মেয়ে রোজা (৩), সোনিয়ার বড় বোন রিয়া (২৭), রুবেলের চাচাতো ভাই এনায়েত (৩২), এনায়েতের স্ত্রী দেলেরা (২৮), তাদের ছেলে জুনায়েদ (১০), এনায়েতের ছোট ভাই হাবিব (৩০), এনায়েতের ভাগনি আয়েশা (১৯) এবং রুবেল (৩৫) নামে আরও একজন।
এনায়েতের ভাগিনা সাজেদ মাতব্বর জানান, দ্বিতীয় তলার ওই বাসায় রুবেল-সোনিয়া দম্পতি থাকতেন। রুবেল মোটরসাইকেল রাইড শেয়ারিংয়ের কাজ করেন। এনায়েত দুবাই প্রবাসী এবং কিছুদিন আগে দেশে ফিরে পরিবার নিয়ে গ্রাম থেকে বেড়াতে এসেছিলেন। তাদের বাড়ি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায়।
সাজেদ বলেন, ভোরে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন বেরিয়ে এসে দেখেন ভবনের নিচতলা ও দ্বিতীয় তলার দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বাসার ভেতরে থাকা সবাই দগ্ধ হয়েছেন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্বজনরা জানান, সোনিয়া ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।


