চট্টগ্রামের রাউজানে পাহাড়ি এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৭। এ সময় দুইজনকে আটকও করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে এ অভিযান চালায় র্যাব।
আটক দুজন হলেন, রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া এলাকার মোহাম্মদ কামাল (৫০) এবং মোহাম্মদ সোহেল আহম্মদ (৪৪)। তারা দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র তৈরি ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি, নোয়াপাড়া এলাকায় একটি বসতবাড়িতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র মজুত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে অভিযান চালিয়ে তিনটি একনলা বন্দুক, ছয়টি ওয়ানশুটার গান, পাঁচটি চাইনিজ কুড়াল, একটি তলোয়ার, পাঁচটি রামদা এবং বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। পরে দুইজনকে আটক করা হয়েছে।’

‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার কামাল উদ্দিন স্বীকার করেছেন যে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কিছু ব্যক্তির সহায়তায় অস্ত্র তৈরি ও বিক্রির কাজ করছেন। তার নামে রাউজান থানায় অন্তত তিনটি মামলাও রয়েছে’ বলে জানান ওই র্যাব কর্মকর্তা।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে তথ্য ছিল, পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় কয়েকটি অস্ত্রের কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে। এই অস্ত্রগুলো স্থানীয় জলদস্যু, মাদক ব্যবসায়ী ও ডাকাতদের কাছে বিক্রি করা হতো। র্যাবের গোয়েন্দা দল দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছিল। উদ্ধার করা অস্ত্র ও সরঞ্জামগুলো পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য থানায় হস্তান্তর করা হবে।’
র্যাব বলছে, রাউজান ও আশপাশের এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড বেড়েছে। শুধু গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে রাজনৈতিক সহিংসতায় ১৭ জন নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে ১২টি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড।
সর্বশেষ শনিবার যুবদলের কর্মী মুহাম্মদ আলমগীর আলমকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর আগে, ৭ অক্টোবর বিএনপির কর্মী মুহাম্মদ আবদুল হাকিমকে চলন্ত গাড়িতে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ দুই ঘটনায়ও অস্ত্রধারীদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।


