রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে এই হাসপাতালে হাম উপসর্গে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হলো।
রোববার বেলা ১১ টায় এ তথ্য জানান রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম চিকিৎসার বিশেষ কমিটির ফোকালপার্সন ডা. আনম তানভীর চৌধুরী। তিনি জানান, শনিবার রাতে আইসোলেশন বিভাগের চিকিৎসাধীন মনি আক্তার নামের ৯ মাসের ওই শিশু মারা যায়।
শিশুটির হাম উপসর্গের পাশাপাশি নিউমোনিয়া ছিল। কিছুদিন আগে তার একটি অপারেশনও হয়েছিল। ঠাকুরগাঁও হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর গত ১০ মে শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
মনি আক্তারের বাবা মাহবুব হোসেন, বাড়ি ঠাকুরগাঁও সদরে।
পাশাপাশি শনিবার সকাল ৯ টা থেকে রোববার সকাল ৯ টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগের জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগ ও ওয়ার্ডে হাম ও উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ২৩ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে এই বিভাগে এখন পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে এক হাজার ১৩৮ জন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে এক হাজার ৬৩ জন এবং বর্তমানে ভর্তি আছেন ৭৫ রোগী।
এর আগে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে মারা যায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ১১ মাস বয়সি জুনাইদ, লালমনিরহাটের হারহাটি গ্রামের রাকিব মিয়ার নয় মাসের ছেলে হাসান, কুড়িগ্রামের উলিপুরের সবুজ মিয়ার ২২ মাস বয়সী ছেলে জাকির।
এ ছাড়া, গত ১৮ এপ্রিল হাসপাতালে হাম উপসর্গ নিয়ে সবার প্রথমে মারা যায় লালমনিরহাট সদরের রিয়াজুল ইসলামের সাত মাস বয়সী ছেলে তানজিদ ইসলাম তামিম।
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর সূত্র জানিয়েছে, রংপুর বিভাগে ১ জানুয়ারি থেকে গত ৩০ মার্চ পর্যন্ত ১১৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৬০ জনের হাম ও ছয়জনের রুবেলা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৯, নীলফামারীতে ১০, রংপুরে পাঁচ, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ে চারজন করে, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনজন, পঞ্চগড়ে দুইজন এবং লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় একজন করে শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে।
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ওয়াজেদ আলী বলেন, ‘আমরা সতর্ক আছি। মাঠ কর্মীরাও কাজ করছেন। উপসর্গ দেখা মাত্রই হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে এই বিভাগে হামের পরিস্থিতি এখনো ভালো আছে। ভবিষ্যতে কি হবে সেটা বলা যাচ্ছে না। ‘


