রংপুরে রেকটিফায়েড স্পিরিট পানের পর বিষক্রিয়ায় চার দিনে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। সবশেষ বুধবার সকাল ৭টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন কারাবন্দি মাদক কারবারি জয়নুল আবেদীন।
রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার অভিজিৎ চৌধুরী জানান, বদরগঞ্জের শ্যামপুর থেকে গ্রেপ্তার জয়নুল আবেদীনকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বন্দি হিসেবে কারাগারে আনা হয়। এর কিছুক্ষণ পর তিনি অসুস্থ বোধ করেন। সঙ্গে সঙ্গেই তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকালে তিনি মারা যান।
এদিকে বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার জাহিদ হাসান জানান, রেকটিফায়েড স্পিরিট পানের ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে দুইজন মারা গেছেন। তারা হলেন, বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের পূর্ব শিবপুর গ্রামের মহির উদ্দিনের ছেলে আব্দুল মালেক এবং রংপুর সদর উপজেলার শ্যামপুর বন্দর কলেজ পাড়ার মৃত মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে রাশেদুল ইসলাম। মঙ্গলবার মধ্য রাতে মালেকের মরদেহ তার নিজ বাড়ি থেকে এবং রাশিদুলের মরদেহ শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এর আগে রোববার দিবাগত মধ্যরাতে বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুরহাট এলাকায় মাদক কারবারি জয়নুল আবেদীনের বাড়িতে রেকটিফায়েড স্পিরিট পান করে অসুস্থ হন বেশ কয়েকজন। ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনজন। তারা হলেন, উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের আলমগীর হোসেন, পূর্ব শিবপুর গ্রামের সোহেল মিয়া এবং সদর উপজেলার সাহাপুর গ্রামের জেন্নাদ আলী।
এ ছাড়া একই ধরনের অপর একটি ঘটনায় আরও একজন মারা গেছেন। মৃত ব্যক্তি হলেন, রংপুরের কোতয়ালী থানার শিবের বাজার এলাকার মানিক চন্দ্র রায় (৬০)। মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
পুলিশ জানায়, রেকটিফায়েড স্পিরিট পানের পর বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে গোপনে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। জয়নুল আবেদীনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১০ বোতল রেকটিফায়েড স্পিরিট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় বদরগঞ্জ ও হাজিরহাট থানায় দুটি পৃথক মামলা হয়েছে।
রংপুর পুলিশ সুপার মারুফাত হোসাইন বলেন, ‘মাদক কারবারিরা বিভিন্ন হোমিওপ্যাথির চেম্বার থেকে রেকটিফায়েট স্পিরিট সংগ্রহ করে থাকেন। সম্প্রতি নগরীর একটি হোমিও চেম্বারে অভিযান চালিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। আমরা বেশ কিছু তথ্য পেয়েছি। এ নিয়ে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’


