সাইপ্রাসে নিখোঁজের ৯ দিন পর শাহারিয়ার আহমেদ ইমন (২২) নামে এক শিক্ষার্থীর মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দেশটির পুলিশ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে।
সোমবার দুপুরে তার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন নিহতের মামা আল ফারুক। এ খবরে পরিবারে চলছে শোকের মাতম।
নিহত ইমন নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার উত্তর বাখরনগর ইউনিয়নের লোচনপুর গ্রামের গ্রীস প্রবাসি নাসির উদ্দিনের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চার মাস আগে স্টুডেন্ট ভিসায় সাইপ্রাসে পাড়ি জমান শাহরিয়ার আহমেদ ইমন। সেখানে ওরোক্লিন এলাকায় একটি বাসায় থাকতেন তিনি। পড়াশোনার পাশাপাশি কোফিনু এলাকায় একটি কারখানায় কাজ করতেন। ১২ জুন কাজের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন ইমন। নিখোঁজ হওয়ার রাতে তিনি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে এক বন্ধুকে নিজের লোকেশন পাঠান। এরপর থেকে তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর ইমনের মুঠোফোন ব্যবহার করে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি তার গ্রীস প্রবাসী বাবা নাসির উদ্দিনের কাছে ৩৫ হাজার ইউরো মুক্তিপণ দাবি করে হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠায়। এ সংক্রান্ত একটি স্ক্রিনশট প্রকাশ করে সাইপ্রাসের একটি গণমাধ্যম।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বরাতে বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, হত্যার কয়েক ঘণ্টা পর অভিযুক্ত ব্যক্তি ইমনের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তার বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং মুক্তিপণ দাবি করেন। এর মাধ্যমে অপহরণের একটি ভুয়া নাটক তৈরি করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহটি পচনরত অবস্থায় পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, নিখোঁজ হওয়ার রাতেই ইমন হত্যার শিকার হন।
দুইদিন আগে অপহরণকারীরা ইমনের পরিবারের সঙ্গে শেষ যোগাযোগ করেন। ভুক্তভোগী পরিবারটি পাঁচ লাখ টাকা দিতে রাজিও হন। তারপর থেকে অপহরণকারী চক্রটি ইমনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। পরে রোববার সাইপ্রাসের পুলিশ নিখোঁজ ইমনের মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার করে।
গ্রীস প্রবাসি নাসির উদ্দিনের তিন ছেলের মধ্যে সবার বড় ছিলেন শাহরিয়ার আহমেদ ইমন। বিদেশের মাটিতে সন্তান নিহত হওয়ার ঘটনায় ইমনের বাড়ি লোচনপুরে চলছে শোকের মাতম।
ইমনের মামা আল ফারুক বলেন, ‘একটি চক্র আমার ভাগ্নে ইমনকে জিম্মি করে ৩৫ হাজার ইউরো দাবি করে। এত টাকা দিতে পারব না বলে তাদের জানানো হয়। সর্বশেষ পাঁচ লাখ টাকা দিতে রাজিও হই আমরা। কিন্তু বিষয়টি পুলিশ ও প্রবাসীদের মধ্যে জানাজানি হলে আমার ভাগ্নেকে হত্যার পর মাটিচাপা দেয় চক্রটি।’
সাইপ্রাস সরকারের কাছে ইমন হত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি নিহত ইমনের লাশ দ্রুত দেশে আনার উদ্যোগ নিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি অনুরোধও জানান।
রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদ রানা জানান, এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা চাওয়া হলে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।


