রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধের প্রায় ৭০ মিটার অংশ নদীতে ধসে পড়েছে।
গত রোববার থেকে ভারী বৃষ্টির কারণে বাঁধটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। সবশেষ বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত বাঁধটির প্রায় ৭০ মিটার ধসে পড়ার খবর পাওয়া যায়।
গংগাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান মৃধার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানিয়েছে, উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের পানির একটানা স্রোতের কারণে বাঁধটি আংশিকভাবে ধসে গেছে।
তিনি বলেন, ‘রোববার থেকে ভারী বর্ষণের ফলে ক্ষতি আরও বেড়েছে, যার ফলে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত বাঁধটির প্রায় ৭০ মিটার ধসে পড়েছে। এই ভাঙনের ফলে তিস্তা সেতু ও রংপুর-লালমনিরহাট সড়কসহ সাতটি চর হুমকির মুখে পড়েছে।’
স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, বাঁধটি পুরোপুরি ধসে গেলে সাতটি চরের অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়বে।
রংপুর ও লালমনিরহাটের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ ২০১৮ সালে ১২১ কোটি টাকা ব্যয়ে গঙ্গাচড়ার মহিপুরে তিস্তার ওপর দ্বিতীয় সেতু নির্মাণ করেছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণেল বাঁধটি ধসে পড়েছে।
আগস্ট মাসে উজানের প্রবল স্রোত সরাসরি বাঁধে আঘাত হানে, যার ফলে এর ভিত্তি ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং ব্লকগুলো সরে যায়।
লক্ষ্মীটারি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হাদী বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং এলজিইডিকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং তারা জরুরি মেরামতের আশ্বাস দিয়েছেন।’
‘এর আগে আমি এলজিইডিকে ক্ষতির বিষয়টি জানিয়েছিলাম এবং তারা মেরামতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় আজকের এই বড় ধরনের ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে।’
ইউএনও মাহমুদুল হাসান মৃধাও জানিয়েছেন যে তিনি জেলা প্রশাসক এবং এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীকে বিষয়টি জানিয়েছেন এবং তারা জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।


