রংপুরে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে হত্যার দায়ে মাসুদ মিয়া নামের এক পোশাক শ্রমিককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। সোমবার বেলা ১১ টায় এই আদেশ দেন সিনিয়র জেলা দায়রা ও জজ আদালতের বিচারক ফজলে খোদা মো. নাজির।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত নারীর নাম সান্তনা বেগম (৩০), বাড়ি বগুড়ায়। তিনি ঢাকার আশুলিয়ার হা-মীম পোশাক কারখানার শ্রমিক ছিলেন।
মামলার উদ্ধৃতি দিয়ে রংপুর জজ আদালতের পুলিশ পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম জানান, ২০২৩ সালের ১৩ জুলাই রংপুরের পীরগঞ্জের বড় আলমপুর ইউনিয়নের গাজী খাঁ পিত্তিরচড়া-রাজারামপুর সড়কের পশ্চিম পাশে মতিয়ার রহমানের আখ ক্ষেতে অর্ধগলিত ও বিকৃত এক অজ্ঞাতনামা নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার পাশেই নবজাতক এক শিশুর মরদেহ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় পীরগঞ্জ থানার এসআই নজরুল ইসলাম অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন। পরে র্যাবের অভিযানে গাজীপুরের তারাগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন সন্দেহভাজন আসামি মাসুদ। তাকে আদালতে তোলা হলে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবাববন্দি দেন।
পুলিশের তদন্তে জানা যায়, রংপুরের পীরগঞ্জের টুকুরিয়া ইউনিয়নের মোনাইল গ্রামের সাহেব মিয়ার ছেলে মাসুদ মিয়া। তিনি ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করার সময় ভুক্তভোগী সান্তনার সঙ্গে ‘দুলাভাই-শ্যালিকা’ সম্পর্ক তৈরি করেন। পরে তা প্রেমের সম্পর্কে গড়ায়।
এক পর্যায়ে তারা স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে বাসাভাড়া নেন। পরবর্তীতে বিয়ের জন্য চাপ দিলে মাসুদ তা কৌশলে এড়িয়ে যান। এরই মধ্যে সান্তনা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে মাসুদ পীরগঞ্জে ফিরে যান।
এমন পরিস্থিতিতে ২০২৩ সালের ১২ জুলাই সান্তনা পীরগঞ্জে মাসুদের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের দাবি জানান। মাসুদ বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কৌশলে রাতে তাকে নিয়ে খালা সানোয়ারের বাড়িতে পাঠান এবং পরের দিন বিয়ে করার আশ্বাসে খালার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে ওই আখ ক্ষেতে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। মৃত্যু নিশ্চিত হলে তিনি সান্তনার পেটে লাথি মারলে মৃত কন্যা সন্তান প্রসব হয়।
আদালত ইন্সপেক্টর আরও জানান, এ ঘটনায় তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোস্তফা কামাল ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই মাসুদকে দায়ী করে আদালতে চার্জশিট দেন। বিচারক আদালতে ১৪ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য ও জেরা শেষে মাসুদকে মৃত্যুদণ্ড ও পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেয়।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি পিপি আফতাব উদ্দিন জানান, ‘এই মামলায় ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর মাধ্যমে একটা দৃষ্টান্ত তৈরি হলো। যাতে কেউ আর এ ধরণের ঘটনা ঘটাতে না পারে।’ এ সময় দ্রুত রায় কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবি সুলতান আহমেদ শাহীন বলেন, ‘আমার মক্কেল ন্যায় বিচার পাননি। পূর্নাঙ্গ রায়ের কপি বিশ্লেষণ করে আমরা আপিল করব।‘


