নেত্রকোনায় যৌতুকের জন্য স্ত্রী পারভীন আক্তারকে নির্যাতন করে হত্যার দায়ে স্বামী শফিকুল ইসলামকে (৪২) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার দুপুরে নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ.কে.এম. এমদাদুল হক এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মামলার অপর দুই আসামি তোরাব আলী ও সখিনা খাতুনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর আগে বারহাট্টা উপজেলার রত্নপুর গ্রামের পারভীন আক্তারের সঙ্গে কলমাকান্দা উপজেলার ক্ষুদ্র সিধলী গ্রামের শফিকুল ইসলামের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুই ছেলে রয়েছে। বিয়ের পর থেকে শফিকুল যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের এক মাস আগে শফিকুল পারভীনের কাছে এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। পারভীন টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর করা হয়। পরে পারভীন বাবার বাড়িতে চলে গেলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সালিসের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করে তাকে আবার স্বামীর বাড়িতে পাঠানো হয়।
এরপর ২০১৯ সালের ২৬ এপ্রিল গভীর রাতে পারভীনের মৃত্যুর খবর পান তার স্বজনরা। খবর পেয়ে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে ঘরের বারান্দায় পারভীনের মরদেহ দেখতে পান তারা। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এই ঘটনায় নিহতের ভাই আবু ইউসুফ বাদী হয়ে কলমাকান্দা থানায় স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত শফিকুলকে দোষী সাব্যস্ত করে এই রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মো. নুরুল কবির রুবেল রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘স্ত্রীকে নির্যাতন করে হত্যার দায়ে আদালত স্বামীকে সর্বোচ্চ শাস্তি দিয়েছেন। এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।’


