ইরানের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা চলছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের সেনাবাহিনী। তাদের মতে, ট্রাম্প কিংবা তার প্রশাসনের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের কোনো আলোচনা চলছে না, এটি সম্ভবও নয়। ইরান যুদ্ধ শুরু করেনি কাজেই এটি শেষ হবে কেবল তেহরানের প্রস্তাবিত শর্তে, ওয়াশিংটনের নয়।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়, ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিম জুলফাগরি এক বিবৃতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের সব দাবিকে নাকচ করে দিয়েছেন।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘আপনাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব কি এতটাই বেড়েছে যে এখন নিজেদের সঙ্গেই আলোচনা করছেন? নিজেদের ব্যর্থতাকে চুক্তি বলে চালানোর চেষ্টা করবেন না।’
তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্র দেশগুলোকে হুঁশিয়ার করে জানান, ইরানের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের আগের দাম বা সহজ সরবরাহ আর ফিরবে না।
জুলফাগরি বলেন, ‘যখন ইরানি জাতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার শেষ চিন্তাও আপনাদের মন থেকে পুরোপুরি মুছে যাবে, কেবল তখনই পরিস্থিতি বদলাবে। তার আগে নয়। এই যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ কেবল ইরানের কাছে।’
ইরানের এই শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা মার্কিন প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ্য করে কঠোর ভাষায় বলেন, ‘যুদ্ধের শুরু থেকেই আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। আমাদের মতো কেউ কখনো আপনাদের মতো কারও সঙ্গে সমঝোতা করবে না। এখনো না, ভবিষ্যতেও না।’
এর আগে, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবরে বলা হয়, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল অসীম মুনিরের মাধ্যমে ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে যুদ্ধ বন্ধে ১৫ শর্ত দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরইমধ্যে তা তেহরানের কাছে পাঠিয়েছেন পাক সেনাপ্রধান।
তবে এমন গুঞ্জনের পরপরই যুদ্ধ বন্ধের আলোচনার সম্ভাব্য সুযোগের বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিল ইরানের সেনাবাহিনী।


