ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সব ম্যাচে বাধ্যতামূলক হাইড্রেশন ব্রেক চালু করেছে ফিফা। খেলোয়াড়দের তীব্র গরম থেকে সুরক্ষা দিতে নেওয়া এ সিদ্ধান্ত প্রশংসার পাশাপাশি সমালোচনারও জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হওয়া এবারের বিশ্বকাপকে ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণ আসর বলে সতর্ক করেছেন জলবায়ু ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এ কারণে প্রতি অর্ধের মাঝামাঝি তিন মিনিটের হাইড্রেশন ব্রেক বাধ্যতামূলক করেছে ফিফা। তবে এই বিরতির প্রয়োজনীয়তা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কোচ, খেলোয়াড় এবং বিজ্ঞানীদের একটি অংশ।
সমালোচকদের মতে, সব ম্যাচে আবহাওয়া বিবেচনা না করেই হাইড্রেশন ব্রেক বাধ্যতামূলক করায় খেলার স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে। বিরতির সময় কোচরা কৌশল পরিবর্তনের সুযোগ পাচ্ছেন, যা ম্যাচের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, মাত্র তিন মিনিটের বিরতি তীব্র গরমে খেলোয়াড়দের শরীর ঠান্ডা করা বা পর্যাপ্ত পানি ও লবণের ঘাটতি পূরণের জন্য যথেষ্ট নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় খেলতে গিয়ে ফুটবলাররা ‘এক্সারশনাল হিট ইলনেস’ (তীব্র গরমে প্রচন্ড ক্লান্ত বোধ করা) -এর ঝুঁকিতে পড়েন। এ অবস্থায় শরীরের তাপমাত্রা বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যায় এবং হৃদযন্ত্র, পেশি, স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্কের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। এর ফলে পেশিতে টান লাগা, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, ক্লান্তি, পানিশূন্যতা, এমনকি অজ্ঞান হওয়ার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরের তাপমাত্রা ৪০ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেলে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি হয়, যা প্রাণঘাতীও হতে পারে। খেলাধুলার সময় হিট স্ট্রোক এখনও খেলোয়াড়দের মৃত্যুর অন্যতম কারণ।
তাদের মতে, একজন খেলোয়াড় গরম আবহাওয়ায় প্রতি ঘণ্টায় এক থেকে দুই লিটার পর্যন্ত ঘাম ঝরাতে পারেন। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা সেই পরিমাণ পানি পান করতে পারেন না। ফলে শরীরের ওজনের মাত্র ২ শতাংশ পানি কমে গেলেও পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
এ কারণেই কয়েকজন গবেষক ফিফার কাছে হাইড্রেশন ব্রেকের সময়সীমা অন্তত পাঁচ থেকে ছয় মিনিট করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এ সময় খেলোয়াড়দের শরীরে ঠান্ডা তোয়ালে ব্যবহার, পর্যাপ্ত পানি পান এবং বিশ্রামের সুযোগ দিলে তাপজনিত ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
তবে ফিফার অবস্থান হলো, তিন মিনিটের বাধ্যতামূলক বিরতি খেলোয়াড় ও ম্যাচ কর্মকর্তাদের জন্য একটি অতিরিক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা। সংস্থাটি বলছে, অতীতের বিভিন্ন টুর্নামেন্টের অভিজ্ঞতা থেকেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে আরও বেশি ক্রীড়া আয়োজনে এমন ধরনের ব্যবস্থা নিতে হতে পারে। তাদের ভাষায়, পৃথিবী যত উষ্ণ হবে, খেলাধুলার নিয়ম-কানুন ও আয়োজনের ধরনেও তত বেশি পরিবর্তন আনতে হবে।
সূত্র: এপি


