লেবাননে হিজবুল্লাহবিরোধী সামরিক অভিযান আরও জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। রোববার ইরান-সমর্থিত সশস্ত্রগোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইসরায়েলি সেনাদের লেবাননের আরও ভেতরে অগ্রসর হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
এতে হুমকির মুখে পড়েছে ইসরায়েল-লেবানন ঘোষিত যুদ্ধবিরতি। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির ছয় সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করেনি ইসরায়েল। বরং প্রায় ২০ বছর রোববার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের লিতানি নদী পেরিয়ে নাবাতিয়েহ শহর অবরোধ করে ইসরায়েলি সেনারা।
সবশেষ অভিযানে ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের প্রায় ৯০০ বছর পুরোনো বিউফোর্ট দুর্গ এবং একটি কৌশলগত পাহাড়ি এলাকা দখল করেছে বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী। এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর উত্তর ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর অন্যতম বড় হামলার একদিন পরই এই অগ্রগতির কথা জানানো হয়।
নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমি সেনাবাহিনীকে লেবাননে স্থল অভিযান আরও সম্প্রসারণের নির্দেশ দিয়েছি।’
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে লেবাননের লিতানি নদী পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে এবং এখন জাহরানি নদীর দিকে আরও প্রায় ১০ কিলোমিটার উত্তরে অগ্রসর হচ্ছে।
নেতানিয়াহু বলেন, হিজবুল্লাহ নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ ‘আরও গভীর ও বিস্তৃত’ করাই তাদের লক্ষ্য।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননে গড়ে তোলা নিরাপত্তা বলয়ের অংশ হিসেবে বিউফোর্ট দুর্গে সেনারা অবস্থান বজায় রাখবে।
তিনি বলেন, ‘এই অভিযান এখনো শেষ হয়নি। হিজবুল্লাহর শক্তি ধ্বংসে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, ইসরায়েলি হামলা ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশের কারণে এ পর্যন্ত ১২ লাখের বেশি লেবানিজ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। মার্চের শুরুতে হিজবুল্লাহ ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইসরায়েলের দিকে রকেট ও ড্রোন হামলা শুরু করার পর থেকে সংঘাতটি তীব্র আকার নেয়।
লেবানন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত তিন হাজার ৩৭০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলের দাবি, একই সময়ে তাদের ২৪ সেনাসদস্য ও চার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। হিজবুল্লাহর হামলায় উত্তর ইসরায়েলের হাজারও বাসিন্দাও বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি ও লেবানিজ প্রতিরক্ষা প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়। দুই পক্ষ গত ১৫ মে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৪৫ দিন বাড়াতে সম্মত হয়েছিল। তারপরও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় সোমবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বানের দাবি জানায় ফ্রান্স।
ইসরায়েলি বাহিনী ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও পাল্টাপাল্টি গোলাগুলি ও হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীকে পরাস্ত করতে হিজবুল্লাহ কম খরচে তৈরি করা যায় এমন আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করছে, যা দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে বলে দাবি ইসরায়েলের।
এর আগে শনিবার রাতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় দক্ষিণ লেবাননের দেইর আল-জাহরানি গ্রামে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা। স্থানীয় সূত্রমতে, রোববার দিনজুড়ে দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ৪০টির বেশি হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।


