যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে বিকল একটি রাসায়নিক ট্যাংক থেকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়া বা বিস্ফোরণের শঙ্কায় কয়েক হাজার মানুষকে বাড়িঘর ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণের উপশহর গার্ডেন গ্রোভ এলাকায় ওই ট্যাংকারের অবস্থান।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, জরুরি সাড়াদানকারী সংস্থাগুলো বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ট্যাংকটি যেকোনো সময় ফেটে গিয়ে রাসায়নিক গ্যাস ছড়িয়ে পড়তে পারে অথবা বিস্ফোরিত হতে পারে। যার ফলে বাতাস বিষাক্ত হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
অরেঞ্জ কাউন্টি ফায়ার অথরিটির ডিভিশন প্রধান ক্রেইগ কোভে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘দমকলকর্মীরা মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দূরনিয়ন্ত্রিত যান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমে ট্যাংকগুলোর ওপর পানি ছিটিয়ে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখছেন। এতে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য কিছুটা সময় পাচ্ছে।’
এর আগে আরেকটি ভিডিওতে কোভে জানিয়েছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দুটি ঘটনা ঘটতে পারে। ট্যাংকটি ফেটে গিয়ে প্রায় সাত হাজার গ্যালন বা ২৬ হাজার ৫০০ লিটার বিষাক্ত রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়তে পারে অথবা এটি বিস্ফোরিত হয়ে আশপাশের অন্য ট্যাংকের জন্যও বড় হুমকি তৈরি করতে পারে।
পরের ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘বারবার বলছি, আমাদের এমন একটি পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে যেখানে দুটি জিনিস ঘটতে পারে- এটি ফেটে যেতে পারে, অথবা বিস্ফোরিত হতে পারে। কিন্তু আমরা এটা মেনে নিতে পারি না।’
‘স্থানীয়, আঞ্চলিক, অঙ্গরাজ্য ও জাতীয় পর্যায়ের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি দল নিরলসভাবে কাজ করছে, যাতে এমন একটি সমাধান বের করা যায়, যার মাধ্যমে বিস্ফোরণ এড়ানো সম্ভব হয়’ উল্লেখ করে কোভে বলেন, ‘কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য- সব মেধাবী মানুষকে একত্র করে এমন একটি পরিকল্পনা তৈরি করা, যাতে এটি বিস্ফোরিত না হয়।’
অরেঞ্জ কাউন্টি রেজিস্টারের খবরে বলা হয়েছে, বিকল হয়ে যাওয়া ট্যাংকটিতে মিথাইল মেথাক্রাইলেট নামের একটি দাহ্য ও উদ্বায়ী রাসায়নিক রয়েছে। এটি প্লাস্টিক ও উৎপাদনশিল্পে ব্যবহৃত হয় এবং ট্যাংকারে সংরক্ষণের আগে একটি মহাকাশ প্রযুক্তি কারখানায় সংরক্ষিত ছিল।
গার্ডেন গ্রোভ শহরে প্রায় এক লাখ ৭২ হাজার মানুষের বসবাস। উপশহরটি লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এর মধ্যে একটি গার্ডেন গ্রোভে এবং অন্য দুটি পাশের শহর আনাহাইম ও সাইপ্রাসে স্থাপন করা হয়েছে।
গার্ডেন গ্রোভ পুলিশ প্রধান আমির এল-ফারা জানান, যেসব এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেখানে প্রায় ৪০ হাজার মানুষের বাস। তবে তাদের মধ্যে প্রায় ১৫ শতাংশ মানুষ এখনও এলাকা ছাড়তে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন।
অরেঞ্জ কাউন্টি ফায়ার অথরিটির অন্তর্বর্তী প্রধান টিজে ম্যাকগভার্ন জানান, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নতুন তথ্য পাওয়ার পর শুক্রবার কর্তৃপক্ষ বুঝতে পারে আগে যে ধারণা করা হয়েছিল তার চেয়ে বিস্ফোরণের ঝুঁকি অনেক বেশি।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা আশঙ্কা জানিয়েছেন, ট্যাংক থেকে বিষাক্ত বাষ্প বের হলে দীর্ঘসময় সংস্পর্শে থাকা মানুষের গুরুতর শ্বাসকষ্টসহ নানা স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত বায়ুমান পর্যবেক্ষণ যন্ত্রে কোনো বিষাক্ত বাষ্প শনাক্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন অরেঞ্জ কাউন্টি হেলথ কেয়ার এজেন্সির কর্মকর্তা ডা. রেজিনা চিনসিও-কোয়াং।
তিনি বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি নির্ধারিত এলাকার বাইরে থাকছেন, ততক্ষণ আপনি নিরাপদ আছেন।’


