চলমান বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগের ঘোষণা দিয়েছে ইরান।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার শর্ত অনুযায়ী, ম্যাচের মাত্র একদিন আগে ইরানি দলটিকে সে দেশে প্রবেশের এবং ম্যাচের দিনই বিদায় নেওয়ার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে।
লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্রয়ের পর এই বৈষম্যের প্রতিবাদ জানিয়ে ইরান ফুটবল ফেডারেশন (এফএফআইআরআই) ফিফার দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ইরান ফুটবল ফেডারেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই ভ্রমণ বিধিনিষেধ সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার নীতির সাথে সাংঘর্ষিক এবং দলের প্রস্তুতি প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ফেডারেশন জানায়, তারা যথাযথ মাধ্যমে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করবে এবং অভিযোগ দাখিল করবে।
নিউজিল্যান্ড ম্যাচের আগে তারা শহরে দুই দিন আগে পৌঁছানোর অনুমতি চেয়েছিল, যা মার্কিন কর্তৃপক্ষ মঞ্জুর করেনি। একইভাবে আগামী ২১ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচের আগেও একই অনুরোধ করা হয়েছিল। স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় ম্যাচ শুরু হওয়ার কথা থাকায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতির জন্য আগে আসার সুযোগ চেয়েছিল দলটি, কিন্তু সেই আবেদনও প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।
ভিসা ও ভ্রমণের এই কঠোর বিধিনিষেধের কারণে লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে ইরানের প্রধান কোচ আমির ঘালেনোয়ি দলটিকে এই বিশ্বকাপের ‘সবচেয়ে নিপীড়িত দল’ বলে অভিহিত করেন।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে শুরু থেকেই এই বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ ছিল অনিশ্চয়তায়। দলটির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী কর্মকর্তা মার্কিন ভিসা পাননি এবং টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিন তাদের বরাদ্দ টিকিটও বাতিল করা হয়। নিরাপত্তার কথা ভেবে ইরানে ইতোমধ্যে তাদের ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা থেকে মেক্সিকোর তিহুয়ানায় সরিয়ে নিয়েছে।
এই বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এক মুখপাত্র বিবিসিকে বলেন, ‘ইরানের জাতীয় ফুটবল দল এই শর্তগুলো মেনে নিয়েছিল।’
অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের ফিফা টাস্কফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি বলেন, ‘দলটি ম্যাচের আগের দিন লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রবেশ করতে পারবে এবং ম্যাচ শেষে সন্ধ্যার মধ্যে ফিরে যেতে হবে।’
কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি একটি প্রাথমিক শান্তি চুক্তি সই করেছেন, তবে ইরানি দলের ক্ষেত্রে মার্কিন ভিসা নীতিতে তার কোনো ইতিবাচক প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। গ্রুপ পর্বে ইরানের বাকি দুটি ম্যাচই মার্কিন মাটিতে অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ২১ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে বেলজিয়ামের বিপক্ষে এবং ২৭ জুন সিয়াটলে মিশরের মুখোমুখি হবে তারা।


