যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন তুলসী গ্যাবার্ড। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন থেকে একের পর এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বিদায় নেওয়ার তালিকায় তিনি সর্বশেষ সংযোজন।
সিএনবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ৩০ জুন থেকে গ্যাবার্ডের এই পদত্যাগ কার্যকর হবে।
শুক্রবার প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠানো একটি আনুষ্ঠানিক চিঠিতে গ্যাবার্ড তার এ সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, তার স্বামী আব্রাহাম উইলিয়ামস সম্প্রতি একটি বিরল ধরনের হাড়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন। এই কঠিন সময়ে স্বামীর পাশে থাকাই তার পদত্যাগের মূল উদ্দেশ্য।
২২ মে তারিখের ওই চিঠিতে গ্যাবার্ড লেখেন, “এমন একটি শ্রমসাধ্য এবং ব্যস্ততম পদে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি, আমি আমার স্বামীকে একা একা এই লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে দিতে পারি না।”
সেদিনই পরে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’–এ দেওয়া একটি পোস্টে এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন। গ্যাবার্ড “অসাধারণ কাজ” করেছেন এবং তার অভাব অনুভূত হবে উল্লেখ করে ট্রাম্প আরও জানান, প্রিন্সিপাল ডেপুটি ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স অ্যারন লুকাস অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব হিসেবে এই পদের হাল ধরবেন।
ফক্স নিউজ প্রথম এই খবরটি প্রকাশ করে। গ্যাবার্ডের এই ঘোষণা চলতি বছরে ট্রাম্প প্রশাসনের ক্রমবর্ধমান পদত্যাগের তালিকাকে আরও দীর্ঘ করল। মাত্র এক মাসের কিছু সময় আগে, শ্রমমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন লরি শ্যাভেজ–ডি রেমার। তিনি ব্যক্তিগত খাতের একটি দায়িত্বে যোগ দিতে সেই সিদ্ধান্ত নেন।
প্রশাসন থেকে বিদায় নেওয়া অন্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন আইনমন্ত্রী (অ্যাটর্নি জেনারেল) প্যাম বন্ডি। জেফরি এপস্টাইন সংক্রান্ত মামলার তদারকি নিয়ে বিতর্কের মুখে পড়ার পর গত এপ্রিলে ট্রাম্প তাকে বরখাস্ত করেন। বন্ডির জায়গায় অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পান টড ব্ল্যাঞ্চ, যিনি বন্ডির সাবেক ডেপুটি এবং প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষা আইনজীবী হিসেবে পরিচিত।
এর আগে গত মার্চ মাসে, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের (ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি) প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় ক্রিস্টি নোয়েমকে। অভিবাসন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের নীতি নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ার পর তাকে বরখাস্ত করা হয়।


