যুক্তরাজ্যের উত্তর ম্যানচেস্টারে একটি সিনাগগের (ইহুদি উপাসনালয়) কাছে গাড়ি চাপা ও ছুরিকাঘাতের ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত তিনজন। পরে সন্দেহভাজন হামলাকারীকে গুলি করে হত্যা করে পুলিশ।
গ্রেটার ম্যানচেস্টার পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৩১ মিনিটে এক প্রত্যক্ষদর্শীর ফোন পেয়ে কর্মকর্তারা ক্রাম্পসলের মিডলটন রোডে অবস্থিত হিটন পার্ক হিব্রু কংগ্রিগেশন সিনাগগে যান। সেখানে পৌঁছেই তারা অস্ত্র হাতে এক ব্যক্তিকে গুলি করে ফেলে দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলাকারী প্রথমে গাড়ি চালিয়ে পথচারীদের চাপা দেন। এরপর সিনাগগের নিরাপত্তারক্ষীকে ছুরিকাঘাত করেন। যদিও তাকে তাৎক্ষণিকভাবে নিরস্ত করা হলেও, তার শরীরে সন্দেহজনক বস্তু থাকায় পুলিশ বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলকে ডেকে আনে।
হামলার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় এলাকাজুড়ে বিপুল পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে থাকা অ্যাম্বুলেন্স কর্মীদেরও প্রতিরক্ষামূলক জ্যাকেট ও হেলমেট পরতে দেখা গেছে।
প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এ হামলায় বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘ক্রাম্পসলের সিনাগগে ইয়ম কিপুরের মতো একদিনে এই সহিংসতা ভয়াবহতা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।’ তিনি কোপেনহেগেনে একটি ইউরোপীয় সম্মেলনে অবস্থানরত অবস্থায় তাৎক্ষণিকভাবে দেশে ফিরে জরুরি বৈঠক ডাকেন।
ব্রিটিশ রাজা চার্লসও এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে গভীর মর্মবেদনা প্রকাশ করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এবং রয়টার্স যাচাইকৃত এক ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশের গুলিতে একজনকে সিনাগগের ভেতরে মাটিতে লুটিয়ে পড়তে। আরেকজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়, যিনি সম্ভবত ঐতিহ্যবাহী ইহুদি টুপি পরে ছিলেন।
ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম স্থানীয়দের ঘটনাস্থল এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই হামলা ব্রিটেনে ইহুদিবিদ্বেষী ঘটনার বেড়ে চলা প্রবণতার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
দাতব্য সংস্থা কমিউনিটি সিকিউরিটি ট্রাস্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল ছিল সাম্প্রতিক ইতিহাসে ইহুদিবিদ্বেষী ঘটনার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বছর। সে বছর সাড়ে তিন হাজারের বেশি ঘটনা রেকর্ড হয়। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েল আক্রমণ এবং পরবর্তী ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধের পর এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা রেকর্ড পরিমাণে বেড়ে যায়।


