সরকারি কাজে বাধা ও থানায় পুলিশ কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে যশোরে জামায়াতে ইসলামীর এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে অবশ্য আদালত থেকে জামিন নিয়ে মুক্ত হন তিনি।
সোমবার কেশবপুর থানায় এই ঘটনা ঘটে। পরে বুধবার সকালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযুক্ত নেতার নাম অজিয়ার রহমান (৫৩)। তিনি জামায়াতের সহযোগী সংগঠন উপজেলা পেশাজীবী পরিষদের কেশবপুর শাখার সভাপতি। এর আগে তিনি ছাত্রশিবিরের যশোর জেলা পূর্ব শাখার সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
অবশ্য জামিন মিললেও দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে অজিয়ার রহমানকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
কেশবপুর থানার পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কিছুদিন আগে অজিয়ার রহমানের চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে অজিয়ার রহমান সোমবার কেশবপুর থানায় যান। সেখানে তিনি মামলার বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলেন এবং একপর্যায়ে থানার ভেতরেই তাদের হুমকি দিতে শুরু করেন।
এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ভিডিওতে অজিয়ার রহমানকে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে বলতে শোনা যায়, ‘আমার সাথে ঝামেলা করলে ভালো হবে না।’
এরপর পুলিশ বাদি হয়ে সরকারি কাজে বাধা, হুমকি ও উচ্চবাচ্যের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করে। সেই মামলায় বুধবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বিকালে তাকে কেশবপুরের বিচারিক হাকিম আঞ্জুমারা খাতুনের আদালতে তোলা হলে সেখানে জামিন পান তিনি।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াতে ইসলামী যশোর জেলা শাখার আমির এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমাদের দলের কোনো সদস্যের এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। অজিয়ার রহমানের কর্মকাণ্ড দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী। তাই তাকে সাময়িকভাবে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত তিনি দলের কোনো কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না।’
কেশবপুর থানার ওসি মামুন হোসেন বলেন, ‘সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় একজন জনপ্রতিনিধির এমন আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা আইনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নিয়েছি।’


