১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে কার কী ভূমিকা ছিল তা একমাত্র আল্লাহ ভালো জানেন বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১২তম দিনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আযম খান জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন-২০২২ সংশোধনের লক্ষ্যে একটি বিল উত্থাপন করেন। এ সময় শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই বিলে প্রস্তাব করা হয়েছে যে জিনিসটা, সেটি স্বাধীনতার পরে তখনকার শাসকও আনেননি। জিয়াউর রহমান, তিনিও আনেননি। তিন বারের অতি সম্মানীয় প্রধানমন্ত্রী তিনিও আনেননি। এ জিনিসটা নিয়ে এসেছেন ফ্যাসিস্টের বিকৃত একজন প্রতিভূ শেখ হাসিনা। পরবর্তী পর্যায়ে ইন্টেরিম গভর্নমেন্ট তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছে সামান্য পরিবর্তনসহ। কী আছে এখানে? তৎকালীন তিনটা সংগঠনের নাম নেওয়া হয়েছে— তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম পার্টি এবং পাক সেনাবাহিনীর সঙ্গে আরও কিছু অক্সিসিলারি ফোর্সের।
তিনি বলেন, ‘আল্লাহ ভালো জানেন ৭১ সালের এই চরম সময়ে কার কী ভূমিকা ছিল। আল্লাহতালা তার নিখুঁত পূর্ণাঙ্গ একমাত্র সাক্ষী। আমরা যারা আছি তারা আংশিক সাক্ষী। কিন্তু আল্লাহ তালাই পূর্ণাঙ্গ সাক্ষী। আমরা চাই, প্রিয় বাংলাদেশ রাজনীতির সুস্থ ধারায় জনগণের প্রতি দায় এবং দরদ নিয়ে, দেশের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে এই দেশের প্রত্যেকটি রাজনৈতিক সংগঠন তার কার্যক্রম পরিচালনা করুক।’
বিরোধী লীয় নেতা বলেন, ‘দেশ স্বাধীন হয়েছে বুক ভরা আশা নিয়ে। মানুষ চেয়েছিল এই দেশটা একটা মানবিক দেশ হবে। সমাজের সর্বক্ষেত্রে ন্যায়বিচার সুপ্রতিষ্ঠিত হবে এবং মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবে। কিন্তু স্বাধীনতার পরে হয়েছিল তার পুরোটাই উল্টা। বেদনার সঙ্গে জাতি লক্ষ্য করল এক পর্যায়ে এসে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে হত্যা করে তারা একদলীয় বাকশাল কায়েম করলেন। এই বাকশাল কায়েমের ইতিহাসও খুব বেদনাদায়ক।’
তিনি বলেন, ‘এই সংসদ মাত্র সাত মিনিট আলোচনা করে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিল এবং একদলীয় বাকশালের জন্ম দিয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে দেশের তখনকার বিদ্যমান সবগুলা রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। এমনকি আওয়ামী লীগ এতটা বেপরোয়া হয়েছিল, যেই আওয়ামী লীগ নামে তারা নির্বাচন করে ৭০ এবং ৭৩ সালে ক্ষমতায় আসল, তারা স্বয়ং আওয়ামী লীগকেও নিষিদ্ধ ঘোষণা করল। ৭৫ এর পট পরিবর্তনের পর ক্ষমতার ধারাবাহিকতায় জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরে এনেছেন। যার সুফল পরবর্তী পর্যায়ে জাতি পেয়েছে এবং আজকের পার্লামেন্টও সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালে পলিটিক্যাল পার্টিস লিবাইবেল অ্যাক্টের মধ্য দিয়ে স্বয়ং আওয়ামী লীগেরও পুনর্জন্ম হয়। বাংলাদেশে সে সময় যে কয়টি দল ছিল, তারা সবাই রাজনীতি করার এই সুবিধাটুকু বা তাদের অধিকারটুকু ফিরে পায়। আমরাও সেই সময় ফিরে পেয়েছি। আমরা কখনো এটা ভুলে যাইনি, ভুলে যাব না। আমরা সেই দায়-দরদ ভালোবাসা নিয়েই ৭৯ সাল থেকে বাংলাদেশে আমাদের রাজনৈতিক সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার চেষ্টা করছি। আগামীর দিনগুলোতেও আর জাতিকে বিভক্ত নয়, বরং ঐক্যবদ্ধ করে সম্মানের জাতি গঠন করতে পারি, সব দলের এটি হোক অঙ্গীকার।’


