ঈদুল আজহার আগে শেষ সময়ে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে মানুষ। তবে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, বৈরী আবহাওয়া, প্রবল বৃষ্টি, যমুনা সেতুর ওপর ও সেতুর সংযোগ সড়কে একাধিক গাড়ি বিকল হওয়ায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর
থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
এ ছাড়া মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ থেকে জামুর্কি পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথে ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করছে।
এতে যাত্রাপথে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ঘরমুখো মানুষ।
হাইওয়ে পুলিশ বলছে, যমুনা সেতুর ধারণক্ষমতা কম থাকায় স্বাভাবিকভাবে বিপুল গাড়ির চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। একাধিক যানবাহন পারাপার করতে পারছে না। ফলে উত্তরবঙ্গ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী যানগুলো ভূঞাপুর লিংক রোড দিয়ে ঘুরিয়ে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।
এক দিকে বৃষ্টি অন্যদিকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খোলা ট্রাক ও বাসের ছাদে করে গন্তব্য যাচ্ছেন যাত্রীরা। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কয়েকগুণ বাড়তি ভাড়ার নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গ রংপুরগামী যাত্রী ইফতেখার হোসেন জানান, দুই ঘণ্টার রাস্তা পার হতে সময় লাগছে ছয় থেকে আট ঘণ্টা। মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন যানবাহন বিকল ও এলেঙ্গা ফ্লাইওভার কাজ চলমান থাকায় এবং মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ কিছু অংশে অসমাপ্ত থাকাইয় যাত্রীদের এই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঈদযাত্রায় ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের ৫৬ হাজার ২৩৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। টোল আদায় হয়েছে তিন কোটি ৮২ লাখ ৯৭ হাজার ৫০ টাকা।
টাঙ্গাইল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ উদ্দিন বলেন, ‘অতিরিক্ত গাড়ির চাপের কারণে যানবাহন ধীরগতিতে চলছে। যানজট নিরসনে আমরা কাজ করে চলছি।’
যমুনা সেতুর সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘রাতে বৃষ্টি ও অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে একটু জটলা হয়েছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানজট স্বাভাবিক হবে।’
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার জানান, যমুনা সেতু ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশে পুরো সড়কেই যানবাহনের বাড়তি চাপ রয়েছে। মূলত বৃষ্টির কারণেই ধীর গতিতে যানবাহন চলছে।


