সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে শুষ্ক মৌসুমেই যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ এলাকায় অস্বাভাবিক ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত ১৭ এপ্রিল রাতে উপজেলার পলাশপুর ঘাট এলাকার দুটি স্থানে নদীর তীর ধসে বেশ কিছু অংশ যমুনায় বিলীন হয়ে গেছে।
হঠাৎ এই ভাঙনের ফলে নদী তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দাবি, পরিস্থিতি বর্তমানে তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তারা জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগে বালু ভরে ভাঙন কবলিত এলাকায় ফেলছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে এই ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। কাজীপুর ইকোপার্ক এলাকা, পলাশপুর, মেঘাই ও ঢেকুরিয়া ঘাট এলাকায় নিয়ম ভেঙে বালু তোলায় নদীর তলদেশে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি যমুনার পানি বাড়তে শুরু করলে সেই পানি পশ্চিম তীরের সংরক্ষণ বাঁধে প্রবল চাপ সৃষ্টি করে ধস নামায়।
বর্ষা মৌসুম আসার আগেই এমন ভাঙন স্থানীয়দের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে মেঘাই বাঁধ, ফসলি জমি ও আশপাশের বসতভিটা।
যমুনার এই তীর সংরক্ষণ প্রকল্পটি ২০১০ সালে শুরু হয়ে ২০১৪ সালে শেষ হয়। দীর্ঘ সময় পর প্রকল্পটি এখন নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা যে বর্ষার আগে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
পলাশপুর গ্রামের বাসিন্দা শান্ত জানান, পুরো শুষ্ক মৌসুমে এই ঘাট এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করা হয়েছে। অবৈধভাবে বালু তোলার কারণে নদীর তলদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। এখন সেই গর্তের কারণে পানির স্রোত সরাসরি তীরে আঘাত হানছে। নদীর তীরেই শান্তর বাড়িসহ আরও অন্তত ১০টি ঘরবাড়ি রয়েছে যা এখন নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে আছে।
একই এলাকার বাসিন্দা মোমেদা খাতুন বলেন, বালু তোলার কারণেই নদীর পাড় ভাঙছে। তীরের বালুর বস্তা ও পাথরের ব্লক নদীতে চলে যাচ্ছে। ঘরবাড়ি দেবে গেলে কোথায় থাকবেন সেই দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।
তিনি জানান, তারা গরিব মানুষ এবং কামলা দিয়ে তাদের সংসার চলে। ভিটেমাটি চলে গেলে তাদের আর কোনো সম্বল থাকবে না।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান এই বিষয়ে বলেন, তীর সংরক্ষণ এলাকার একটি জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে তারা বালুর বস্তা ফেলে সেখানে মেরামতের কাজ করছেন।
তিনি স্বীকার করেন, নদী থেকে বৈধ ও অবৈধ দুইভাবেই বালু তোলা হয়। তারা মাঝেমধ্যেই বালু উত্তোলনকারীদের সরিয়ে দেন। কেউ যেন নদীর পাড় থেকে বা অবৈধভাবে বালু তুলতে না পারে সে জন্য তারা সব সময় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
কাজীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মোস্তাফিজুর রহমান বালু মহাল আইনের কথা উল্লেখ করে বলেন, কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বাঁধ, কালভার্ট, ড্যাম, ব্রিজ বা আবাসিক এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করা নিষিদ্ধ। বালু তুলতে হলে এই সকল স্থাপনা থেকে অন্তত এক কিলোমিটার দূর থেকে তুলতে হবে।
তিনি জানান, বালু উত্তোলন করতে গিয়ে বালু ব্যবসায়ীরা সড়ক ছিদ্র করেছে। এ বিষয়ে সড়ক বিভাগের কাছে লিখিতভাবে জানতে চাওয়া হয়েছে। এর আগে ইকোপার্ক এলাকা থেকে বালু উত্তোলনের চেষ্টা করা হলে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করে প্রশাসন।


