মেট্রোরেলসহ গণপরিবহনে ব্যবহৃত র্যাপিড পাস ও এমআরটি পাস এখন মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনে রিচার্জ করা যাবে।
সোমবার ঢাকার তেজগাঁওয়ে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে র্যাপিড পাসে অনলাইন রিচার্জ সুবিধা ও এর প্রচার কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ডিটিসিএ কর্মকর্তারা জানিয়েছে, দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থাকে ডিজিটাল ও আধুনিক করার ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই অ্যাপভিত্তিক সেবা চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মেট্রোরেল ও ভবিষ্যতে অন্যান্য গণপরিবহনে স্মার্ট কার্ড ব্যবহারে আরও গতি আসবে।
অ্যাপটির মাধ্যমে কাউন্টারে না গিয়ে নিরাপদভাবে র্যাপিড পাস ও এমআরটি পাস রিচার্জ করা যাবে উল্লেখ করে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রিচার্জের ইতিহাস ও কার্ড ব্যবহারের তথ্য দেখা, এনএফসি সুবিধাসম্পন্ন স্মার্টফোন দিয়ে তাৎক্ষণিক ব্যালেন্স যাচাই এবং বিকাশ, রকেট, ভিসা, মাস্টারকার্ড ও আমেরিকান এক্সপ্রেস কার্ডসহ একাধিক ডিজিটাল পেমেন্ট মাধ্যম ব্যবহারের সুযোগ থাকবে।
এ সময় নতুন অ্যাপটির ব্যবহারবিধি সম্পর্কে জানানো হয় অনুষ্ঠানে। বলা হয়, অনলাইনে রিচার্জের সেবা নিতে গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করে একবার সাইন-আপ সম্পন্ন করতে হবে। র্যাপিড পাসের ওয়েবসাইটে আগে নিবন্ধিত ব্যবহারকারীরা একই লগইন তথ্য ব্যবহার করে অ্যাপে ঢুকতে পারবেন। লগইনের পর পূর্বে যুক্ত করা কার্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেখানো হবে এবং প্রয়োজনে নতুন র্যাপিড পাস বা এমআরটি পাস কার্ড যুক্ত করা যাবে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, একবারে সর্বনিম্ন ১০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অনলাইনে রিচার্জ করা যাবে। তবে অনলাইনে রিচার্জের পর কার্ডটি অ্যাড ভ্যালু মেশিনে ট্যাপ না করা পর্যন্ত ব্যালেন্স কার্যকর হবে না। রিচার্জ সফল হলে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে নিশ্চিতকরণ বার্তা পাঠানো হবে।
এ ছাড়া, একসময়ে একটি কার্ডে কেবল একটি পেন্ডিং অনলাইন রিচার্জ রাখা যাবে। ব্ল্যাকলিস্টভুক্ত, ফেরত দেওয়া বা অবৈধ কার্ডে রিচার্জ করা যাবে না। অ্যাড ভ্যালু মেশিনে ট্যাপ করার আগে সাত দিনের মধ্যে পেন্ডিং রিচার্জ বাতিলের আবেদন করা গেলেও সে ক্ষেত্রে পাঁচ শতাংশ সেবা চার্জ প্রযোজ্য হবে বলেও জানানো হয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে।
নতুন চালু হওয়া এই অ্যাপ ব্যবহার করে যাত্রীরা যেকোনো সময় ও স্থান থেকে কার্ডে রিচার্জ করতে পারবেন, ফলে কাউন্টারে লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা কমবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে যাত্রীসেবার মান উন্নত হবে এবং ভবিষ্যতে বাস, মেট্রোরেলসহ অন্যান্য গণপরিবহনে র্যাপিড পাসের ব্যবহার আরও সম্প্রসারণের পথ সুগম হবে বলেও আশাবাদী তারা।
এর আগে, গত বছরের ২৫ নভেম্বর আগারগাঁও মেট্রো স্টেশনে র্যাপিড পাসের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইন রিচার্জ সুবিধা চালু করা হয়। সে সময় অল্প সময়ের মধ্যে মোবাইল অ্যাপ চালুর ঘোষণাও দেওয়া হয়েছিল। সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে অ্যান্ড্রয়েডভিত্তিক র্যাপিড পাস অ্যাপ গুগল প্লে স্টোরে উন্মুক্ত করা হয়।


