মেহেরপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এজলাসে বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। আকস্মিক এ ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে থমকে যায় আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম।
বুধবার দুপুরে আদালতের ভেতরে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী ও আদালত সংশ্লিষ্টরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিচার চলাকালে হঠাৎ বিকট শব্দে জানালার কাচ ভেঙে একটি পাথর এজলাস কক্ষের ভেতরে এসে পড়ে। এতে উপস্থিত সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং বিচারিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই আদালতের বারান্দায় দায়িত্বরত কোর্ট পুলিশের সদস্যরা দ্রুত তৎপরতা দেখান। এ সময় অভিযুক্ত পাথর নিক্ষেপকারী শরীফকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তিনি মেহেরপুর শহরের নতুন শেখপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিকে আইনজীবীদের উপস্থিতিতে বিচারকের সামনে হাজির করা হলে তিনি পাথর ছোড়ার কথা স্বীকার করেন।
তিনি দাবি করেন, ইসলামের বাণী পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন। এতে ব্যর্থ হয়ে তিনি আদালতে প্রবেশের অনুমতি চান। তবে তাতেও ব্যর্থ হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি এজলাস লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করেন।
রাষ্ট্র সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না অভিযোগ করে শরীফ জানান, তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই।
তবে আদালত সূত্রে জানা যায়, তিনি স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্যের শেষ দিকে ধারাবাহিকভাবে অসংলগ্ন ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিতে থাকেন।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় বিচারকের নির্দেশে অভিযুক্তকে আদালতের হাজতখানায় পাঠানো হয়। পরবর্তীতে দেহ তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে একটি খাতা ও একাধিক কাগজ উদ্ধার করা হয়। এসব কাগজে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বক্তব্যসম্বলিত উস্কানিমূলক ও অস্পষ্ট লেখা পাওয়া গেছে।
এসব আলামত জব্দের পাশাপাশি এজলাস কক্ষের ভেতর থেকে নিক্ষিপ্ত পাথরটিও উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় আদালতের বেঞ্চ সহকারী মাসুদ রানা ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ করে থানায় মামলা করেন।
এ বিষয়ে মেহেরপুর সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আদালতের এজলাসে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। অভিযুক্তের বক্তব্যের পাশাপাশি তার মানসিক অবস্থাও গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে।’
এদিকে, আদালতের ভেতরে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আদালত প্রাঙ্গনে কোর্ট পুলিশ থাকার পরেও এ ধরনের ঘটনায় বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


