আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলে জেতা ম্যাচে তিনটি গোলই ছিল লিওনেল মেসির। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিকের পরও সেদিন কেঁদেছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। ম্যাচ শেষে কান্নাভেজা চোখে তিনি জানিয়েছিলেন, ফুটবলের বাইরে ব্যক্তিগত কিছু কঠিন সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
পরবর্তীতে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমে খবর চাউর হয় যে মেসির বাবা জর্জ মেসি গুরুতর অসুস্থ, আর সে কারণে মাঠের ভেতর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি লিওনেল।
এই খবরটি মুহূর্তের মধ্যে বিশ্ব মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এবং বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম বিষয়টি ভিন্নভাবে ও রংচং মাখিয়ে প্রচার করতে শুরু করে। বাবার অসুস্থতা নিয়ে চারদিকে এমন জল্পনা-কল্পনা তৈরি হওয়ায় অবশেষে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছে এবং নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে মেসির পরিবার।
বৃহস্পতিবার মেসির পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক একটি বিবৃতি দেওয়া হয়। সেখানে জানানো হয়, জর্জ মেসি বর্তমানে একটি ‘স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতি’ মোকাবিলা করছেন। তবে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে আছেন, ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং তার বর্তমান শারীরিক অবস্থার মধ্যে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে।
বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে মেসির পরিবার জানায়, গত কয়েক ঘণ্টায় যে ধরনের গুঞ্জন ছড়ানো হয়েছে, তা নিয়ে আমরা গভীরভাবে অসন্তুষ্ট। কিছু মানুষ একটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পারিবারিক বিষয়কে যেভাবে অসংবেদনশীলতা, অসম্মান ও গোপনীয়তার অভাবের সঙ্গে উপস্থাপন করেছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক।
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও স্পষ্ট করে দেওয়া হয় যে, জর্জ মেসির প্রকৃত শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কেবল তার নিকটাত্মীয়রাই সঠিক তথ্য জানেন। তাই গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মনগড়া কোনো গুঞ্জন না ছড়ানোর জোরালো অনুরোধ জানানো হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই সময়ে আমরা দায়িত্বশীলতা, সংযম এবং মানবিকতার আহ্বান জানাই। একজন মানুষের স্বাস্থ্য এবং তাঁর পরিবারের মানসিক শান্তি যেন জল্পনা-কল্পনা বা দায়িত্বহীন সংবাদ প্রচারের বিষয় না হয়।
এর আগে, আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে মাঠ ছাড়ার সময় নিজের কান্না প্রসঙ্গে মেসি বলেছিলেন, সত্যি বলতে, ফুটবলের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। ব্যক্তিগত কারণে গত কয়েকটা দিন আমার বেশ কঠিন কেটেছে। আমি দলের সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। বরাবরের মতো তারা সবসময় আমার পাশে ছিল। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার জন্য তারা আমাকে প্রচুর শক্তি জুগিয়েছে, ব্যস এটুকুই।
বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আগামী সোমবার রাত ১১টায় অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। এরপর ২৮ জুন গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের প্রতিপক্ষ জর্ডান।


