ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা মোকাবিলায় ভোটকেন্দ্রগুলোতে মেডিকেল টিমের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এজন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
বৃহস্পতিবার ইসি সচিবালয়ে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের ইসি সচিব জানান, মেডিকেল টিমগুলো ক্লাস্টার হিসেবে মোতায়েন থাকবে। যাতে প্রয়োজনে দ্রুত সাড়া দেওয়া যায়।
আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে হতে চাওয়া নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মোট ৩২ জন সচিব ওই সভায় অংশ নিয়েছিলেন।
আখতার আহমেদ আরও জানান, এরই মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যেন ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি বা এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি নির্বাচনের তারিখের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়।
ভোটকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা ও রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ও তুলে ধরেন সচিব।
তিনি বলেন, ‘আমরা সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে ভোটকেন্দ্র এবং সেগুলোতে যাতায়াতের রাস্তা মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য অনুরোধ করেছি। যদিও ফেব্রুয়ারিতে আবহাওয়া অনুকূল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে, তবুও এই কেন্দ্রগুলোতে আগে থেকেই সহজ প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।’
স্থানীয় সরকার বিভাগ, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগে থেকেই ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পোলিং অফিসার নিয়োগের বিষয়ে আখতার আহমেদ বলেন, ‘ইসি প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং এবং পোলিং অফিসারদের একটি সমন্বিত প্যানেল তৈরি করছে, যাতে সরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষক এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।’
‘আমরা নিরপেক্ষ ও সক্ষম কর্মকর্তাদের দ্বারা নির্বাচন পরিচালনা নিশ্চিত করতে চাই।’
এছাড়া সভায় পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে দুর্গম এলাকায়। সহজে পৌঁছানো যায় না এমন অঞ্চলে পরিবহন সহজতর করতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে হেলিকপ্টার অবতরণের সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
সভায় নির্বাচনী প্রচার এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হয়।
আখতার আহমেদ আরও জানান, বিদেশী পর্যবেক্ষকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়েছে।
সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন প্রতিনিধি জানান, ঋণ খেলাপিদের বিষয়ে তথ্য হালনাগাদ ও সরবরাহ করতে তাদের ৪-৫ দিন সময় লাগবে। ইসি তাদের প্রয়োজনীয় সময় দিতে সম্মত হয়েছে।
বাজেট বরাদ্দ প্রসঙ্গে আক্তার আহমেদ উল্লেখ করেন, অর্থ বিভাগের কাছে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে, তবে সকল মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে ব্যয় সাশ্রয়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একান্ত প্রয়োজন না হলে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় পরিহার করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনা ছিল আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নির্বাচনের সময় নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদের যথাযথ নিয়োগ নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রসঙ্গে, ইসি ভোট গ্রহণ ও গণনা উভয় সময়েই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রয়োজনের ওপর জোর দিয়েছে।
রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জন্য নির্বাচনী প্রতীকের তালিকায় ‘শাপলা কলি’ প্রতীক অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আখতার আহমেদ ব্যাখ্যা করে বলেন যে, এই সিদ্ধান্ত কারও দাবির দ্বারা প্রভাবিত নয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে ‘শাপলা’ এবং ‘শাপলা কলি’র মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
বিভিন্ন দাবি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ইসিতে ঘনঘন যাওয়ায় ইসি কোনো চাপ অনুভব করছে কিনা জানতে চাইলে, ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘দলগুলো ইসিতে আসে মানেই আমরা চাপে আছি তা নয়। এভাবে ভাবাটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’


