বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘আর কোনো অপশক্তি যেন দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে না পারে, দেশকে তাবেদার রাষ্টে পরিণত করতে না পারে, এজন্য আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকব।’
শনিবার বিকাল পৌনে ৪টার দিকে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত বিএনপির নির্বাচনোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে বক্তব্য দেওয়া শুরু করেন তারেক রহমান। নির্বাচনের ফলাফল, সরকার গঠনের প্রস্তুতি, সম্ভাব্য জোট রাজনীতি এবং আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় জনগণ আবারও বিএনপিকে বিজয়ী করেছে, আলহামদুলিল্লাহ। এ বিজয় বাংলাদেশের, গণতন্ত্রের, স্বাধীনতাপ্রিয় জনগণের। আমি দেশের সব জনগণকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। সব প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে আমরা দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করেছি।’
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আমরা যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছি। দেড় দশক পর জনগণের সরাসরি ভোটে সংসদ এবং সরকার প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘জামায়াত, এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদসহ ৫১টি দল এ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব দলকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। সরকার এবং বিরোধী দল যে যার অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করলে অবশ্যই দেশে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’
তিনি বলেন, ‘দেশ গঠনে সব গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের চিন্তা-ভাবনা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের পথ ও মত ভিন্ন থাকতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে আমরা সবাই এক। আমি বিশ্বাস করি জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি এবং বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।’
দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তিনি অন্তর্বর্তী সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘জনগণের প্রত্যাশিত এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য গণতন্ত্রের ইতিহাসে আপনাদের অবস্থান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘দল-মত, ধর্ম-বর্ণ কিংবা ভিন্নমত যাই হোক, কোনো অজুহাতেই দুর্বলের ওপর সবলের আক্রমণ আমরা মেনে নেব না। ন্যায়পরায়ণতাই হবে আদর্শ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা না গেলে আমাদের সব প্রচেষ্টা বৃথা যেতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘আইন সবার জন্য সমান। আইনের প্রয়োগ হবে বিধিবদ্ধ নিয়মে।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে একে অপরের বিরুদ্ধে কিংবা একদল আরেক দলের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গিয়ে ভোটের মাঠে হয়তো কোথাও কোথাও নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। তবে এ ধরনের বিরোধ যেন প্রতিশোধ প্রতিহিংসায় রূপ না নেয় সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাই।’


