২৫ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার পরিকল্পনায় তার নিরাপত্তা ও সংবর্ধনা দেয়া নিয়ে দলের মধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। যদিও দেশে ফেরার জন্য তিনি এখনো লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের কাছে ট্রাভেল পাস চাননি।
তারেক রহমান যদি তার মা খালেদা জিয়ার সঙ্গে একই বাড়িতে বসবাস করেন তবে তিনি এসএসএফের (স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স) নিরাপত্তার মধ্যে থাকবেন।
তবে অন্য কোন বাসায় উঠলে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসএসএফ সুবিধার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করবে বিএনপি। এ কথা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর।
এদিকে অন্তর্বতী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীও বলেছেন, তারেক রহমানের জন্য সরকার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই তারেক রহমান দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
শুক্রবার রাতে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমে বলেছেন, তিনি ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরবেন।
তারপর তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে দলের মধ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছে। সেসব বৈঠকে তাকে বিমানবন্দর থেকে গুলশানের বাসভবনে আনতে পথে পথে সংবর্ধনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেছেন, ‘তারেক রহমান ১৭ বছর ধরে দেশের বাইরে থেকে দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। দেশে ফিরে সরাসরি দলের দায়িত্ব নেবেন। আগমনের দিন সারা দেশ থেকে নেতাকর্মীরা ঢাকায় আসবেন এবং তাকে বিমানবন্দর থেকে গুলশান পর্যন্ত পথে পথে স্বাগত জানানো হবে।’
এদিকে তারেক রহমানের ব্যবহারের জন্য বিদেশ থেকে একটি বুলেটপ্রুফ এসইউভি আমদানি করা হয়েছে। টয়োটা ল্যান্ড ক্রুজার প্রাডো এলসি ২৫০ মডেলের এই গাড়িটি বিএনপির নামে নিবন্ধন করা হয়েছে।
তারেক রহমান ঢাকায় আসার পর গুলশান এভিনিউ’র ১৯৬ নম্বর বাড়িতে ওঠার কথা রয়েছে। বাড়িটি দেড় বিঘা জমিতে নির্মিত বাড়িটি আধুনিক সুযোগ-সুবিধায় সজ্জিত।
বিএনপি চেয়ারপারসনের নিরাপত্তায় নিয়োজিত এসএসএফ বর্তমানে বাড়িটির দেখভাল করছে। সম্প্রতি সেখানে সিএসএফের সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
বর্তমানে খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। সেখানে তাকে নিরাপত্তা দিচ্ছে এসএসএফ।
বিএনপির চেয়ারপারসনের নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর টাইমসকে বলেছেন, ‘খালেদা জিয়াকে ভিভিআইপি মর্যাদায় এসএসএফ নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে। তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সরকারের কাছে আবেদন করা হচ্ছে।’
২০০৭ সালে এক-এগারোর সেনা সমর্থিত সরকারের সময় তারেক রহমান গ্রেপ্তার হন। ২০০৮ সালে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি চিকিৎসার জন্য সপরিবারে লন্ডনে চলে যান এবং রাজনৈতিক আশ্রয় নেন।
২০১৮ সালে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাবন্দী হওয়ার পর তারেক রহমান দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান।
তিনি ১৭ বছর ধরে লন্ডন থেকে বিএনপি পরিচালনা করছেন। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলে তারেক রহমানকে যাবতীয় মামলায় খালাস দেওয়া হয়।


