শেষ সপ্তাহে সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে মেঘনা নদীতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পায়। ফলে লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীর উপকূলে অবস্থিত কমলনগর ও রামগতি উপজেলায় মেঘনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধের ১২টি স্থানে নতুন করে ধস দেখা দিয়েছে। স্রোতের তোড়ে রামগতির ১০টি এবং কমলনগরের ২টি স্থানে বাঁধের ব্লক ধসে পড়ে, যার ফলে জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। এতে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা বন্যা আতঙ্কে রয়েছেন।
কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির পর শুক্রবার থেকে প্রবল জোয়ারের তোড়ে বাঁধের ব্লক ধসে পড়তে শুরু করে, যার ফলে বাঁধের বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। রামগতি উপজেলায় বড়খেরী, চরগাজী, মাছঘাট, মালিবাড়ী, উছখালী এবং ওয়াপদা অফিসসংলগ্ন এলাকায় বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কমলনগরের মাতাব্বরহাট ও লুধুয়া বাজার অংশেও বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিম্নমানের ব্লক ব্যবহারের কারণে জোয়ারের তোড়ে বাঁধের ব্লক ধসে পড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে মেঘনার তীব্র ভাঙনে লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলার ২৪২ বর্গকিলোমিটার এলাকা নদীতে হারিয়ে যাওয়ায় প্রায় এক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, এমনটি জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ আমজাদ হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত বাঁধ মেরামতের জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সময়মতো কাজ শুরু না হলে বড় ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি রয়েছে।
এদিকে, মেঘনার ভাঙনে ভোলার চরফ্যাশনের হাজারীগঞ্জের খেঁজুর গাছিয়া এলাকায়ও প্রায় আড়াইশ’ মিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত বছরও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তাই নতুন করে টেকসই বাঁধ নির্মাণ করার দাবি জানিয়েছেন মেঘনা পাড়ের বাসিন্দারা।


