বরেণ্য চিত্রশিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও একুশে পদকপ্রাপ্ত মুস্তাফা মনোয়ারের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে মঙ্গলবার (৩০ জুন)। জানাজা শেষে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ নেওয়া হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। পরে তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে।
সোমবার রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান শিল্পীর ছেলে সাদাত মনোয়ার। তিনি বলেন, ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে গোসল সম্পন্ন করার পর দুপুর ১২টার দিকে মরদেহ নিজ বাসভবনে নেওয়া হয়েছে। বিকেল পর্যন্ত সেখানে স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের শ্রদ্ধা নিবেদনের সুযোগ থাকবে। এরপর মরদেহ স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে সংরক্ষণ করা হবে।
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) প্রাঙ্গণে মুস্তাফা মনোয়ারের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে তার মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হবে। সেখানে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ রাখা হবে।
এরপর মরদেহ নেওয়া হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে শিল্পীর দীর্ঘদিনের কর্মস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে আধা ঘণ্টার জন্য রাখা হবে, যাতে তার সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীরা শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারেন। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে মঙ্গলবার বিকেলের মধ্যে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ফুসফুসে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।
গত ১৪ জুন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছিল। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। চিত্রকলা, টেলিভিশন, পাপেটশিল্প ও শিশুতোষ সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদান রেখে তিনি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে এক অনন্য স্থান করে নিয়েছেন।


