মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগীকে ‘নির্বোধ’ (ডাম্বহেড) বলে বিপাকে পড়েছেন মিস ইউনিভার্স থাইল্যান্ডের পরিচালক নাওয়াত ইটসারাগ্রিসিল। এ বছর ৭৪তম মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতার আয়োজক দেশ থাইল্যান্ড।
গত মঙ্গলবার প্রতিযোগিতার এক প্রাক-ইভেন্টে মিস মেক্সিকো ফাতিমা বোস্ককে অপমানজনক ওই মন্তব্য করেন ইটসারাগ্রিসিল। ফাতিমা বোস্ক থাইল্যান্ডকে নিয়ে কোনো প্রচার ভিডিও তৈরি না করায় এই থাই মিডিয়া ব্যক্তিত্ব বলেন, ‘মিস মেক্সিকো, তুমি কোথায়? শুনেছি, তুমি থাইল্যান্ড-সম্পর্কিত কোনো কিছু সমর্থন করছ না। এটা কি সত্যি?’ তুমি যদি থাইল্যান্ডে বসে নিজের দেশের পরিচালকের নির্দেশ মেনে চলো তাহলে তুমি একজন নির্বোধ।’
ইটসারাগ্রিসিলের ধারণা ফাতিমা বোস্ক থাইল্যান্ডের আয়োজক দলের কথা না শুনে মিস মেক্সিকো সংগঠনের নির্দেশ অনুসরণ করছেন।
তার এই বক্তব্যে তাৎক্ষনিকভাবে দাঁড়িয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান মিস মেক্সিকো। তিনি বলেন, ‘আমি কথা বলছি। কিন্তু আপনি আমাকে একজন নারী হিসেবে সম্মান করছেন না। আমার দেশের সংগঠনের সঙ্গে আপনার বিবাদ থাকতেই পারে। সে কারণে আপনি আমাকে হেয় করতে পারেন না।’
এ সময় থাই পরিচালক বার বার বোক্সকে চুপ থাকার নির্দেশ দিলেও তিনি তর্ক চালিয়ে যান। এক পর্যায়ে তার জবাবে ক্ষুব্ধ হয়ে নিরাপত্তাকর্মীদের ডেকে বোক্সকে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন ইটসারাগ্রিসিল।
এতেই পুরো ঘটনার মোড় পালটে যায়। একে একে অন্য প্রতিযোগীরাও প্রতিবাদ জানিয়ে সিট ছেড়ে উঠে মিস মেক্সিকোর পাশে দাঁড়ান। ইটসারাগ্রিসিল তাদেরও প্রতিযোগিতা থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দিলে বেশরিভাগ প্রতিযোগীই তাতে কর্ণপাত না করে সরাসরি অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে বেরিয়ে যান।

পুরো অনুষ্ঠানটিই সামাজিকমাধ্যম ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছিল। মুহূর্তেই ঘটনাটি ভাইরাল হয়ে যায়। এতে দেখা যায়, আয়োজক দেশের পক্ষ থেকে অপমানজনক ওই কথায় মঞ্চ ছেড়ে যাওয়া প্রতিযোগীদের মধ্যে আছেন মিস ডেনমার্ক ও বর্তমান মিস ইউনিভার্স ভিক্টোরিয়া কায়ার থেইলভিগও।
ভিক্টোরিয়া কায়ার থেইলভিগও বলেন, ‘এটা নারীর অধিকারের প্রশ্ন। এভাবে কাউকে অপমান করা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এ জন্যই আমি আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিচ্ছি এবং এই অনুষ্ঠান ছেড়ে যাচ্ছি।’
অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে মিস ইউনিভার্স সংস্থা এক বিবৃতিতে ইটসারাগ্রিসিলের আচরণকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে নিন্দা জানিয়ে তার দায়িত্ব সীমিত করার ঘোষণা দেয়।
সংস্থার প্রেসিডেন্ট রাউল রোচা এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘আমি কখনোই নারীর মর্যাদা ও সম্মানের মূল্যবোধ লঙ্ঘিত হতে দেব না। ইটসারাগ্রিসিল হয়তো ভুলে গেছেন, একজন আয়োজকের আসল দায়িত্ব অতিথিদের সম্মান জানানো, তাদের পাশে থাকা এবং মানবিক সদাচরণ নিশ্চিত করা।’ প্রয়োজনে মিস ইউনিভার্স সংগঠন ইটসারাগ্রিসিলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

এদিকে বিতর্ক চরমে পৌঁছে গেলে তড়িঘড়ি করে সংবাদ সম্মেলন ডেকে এই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে সকল প্রতিযোগীর কাছে ক্ষমা চান ইটসারাগ্রিসিল। তার দাবি, মিস মেক্সিকোকে তিনি নির্বোধ বলেননি। বরং তিনি বলেছেন, থাইল্যান্ড বিষয়ে অনাগ্রহ প্রতিযোগিতায় তার অবস্থান নষ্ট (ড্যামেজ) করছে। মিস মেক্সিকো বুঝতে ভুল করেছেন।
অন্যদিকে, মিস মেক্সিকো ফাতিমা বোস্ক নিজের অবস্থানে অনড় থেকে বলেন, ‘আমি কথা বলতে ভয় পাই না। আমি এখানে এসেছি নারীর প্রতিনিধি হয়ে, আমাদের অধিকার রক্ষার কথা বলার জন্য। আমি কোনো পুতুল নই, যে শুধু সাজবে আর চুপ করে থাকবে। আমি আমার দেশের মেয়েদের হয়ে কথা বলব, এটাই আমার লক্ষ্য।’
মিস ইউনিভার্স সংগঠন এই বিতর্কের মধ্যেই প্রতিযোগিতার বিভিন্ন পর্ব অব্যাহত রাখে। ফাইনাল রাউন্ড হবে ২১ নভেম্বর।


