মির্জা ফখরুলের ৭৯তম জন্মদিন আজ  

মির্জা ফখরুলের ৭৯তম জন্মদিন আজ   
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। স্কেচ: টাইমস
Advertisement
Advertisement

সাবেক মন্ত্রী, বিএনপির মহাসচিব ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ৭৯তম জন্মদিন আজ সোমবার। জন্মদিন উপলক্ষে একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয় জানিয়েছেন তিনি।

তিনি অভিযোগ করেন, একটি গোষ্ঠী মহান একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছ থেকে মুছে দিতে চায়। এ ধরনের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে জন্মগ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ৭৯ বছরে পা দেওয়া এই প্রবীণ রাজনীতিকের জন্মদিনে বিভিন্ন স্তরের মানুষ, দলীয় নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

মির্জা ফখরুলের বাবা মরহুম মির্জা রুহুল আমিন (চোখা মিয়া) ছিলেন একজন আইনজীবী ও বিশিষ্ট রাজনীতিক। তিনি স্বাধীনতার আগে ও পরে ঠাকুরগাঁও থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার মা মরহুমা মির্জা ফাতেমা আমিন।

শিক্ষাজীবনে মির্জা ফখরুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭২ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দিয়ে ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন সরকারি কলেজে অর্থনীতির শিক্ষকতা করেন। এ ছাড়া তিনি বাংলাদেশ সরকারের পরিদর্শন ও আয়-ব্যয় নিরীক্ষা অধিদপ্তরে নিরীক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

আরও পড়ুন

১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৮২ সালে এরশাদ সরকারের সময় বারী পদত্যাগ করলে তিনি পুনরায় শিক্ষকতা পেশায় ফিরে যান এবং ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় মির্জা ফখরুল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সদস্য ছিলেন এবং এস এম হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

১৯৮৬ সালে শিক্ষকতা পেশা ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন তিনি। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে তিনি বিএনপির ঠাকুরগাঁও জেলা সভাপতি নির্বাচিত হন।

ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে তিনি দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বেগম খালেদা জিয়ার সরকারে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসন থেকে নির্বাচিত হলেও তিনি সংসদে যোগ দেননি।

২০১১ সালে তৎকালীন মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে মহাসচিব নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় একাধিকবার কারাগারে যান তিনি। শেখ হাসিনা পতনের আন্দোলনে তাকে সম্মুখ সারির নেতা হিসেবে দেখা যায়। গত প্রায় দেড় দশক ধরে তিনি বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad