কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তসংলগ্ন নাফ নদীর পূর্বতীরে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে আবারও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকালে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মি (এএ) এর সাথে রোহিঙ্গাদের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ঘটনাটি মিয়ানমারে অভ্যন্তরে সংঘঠিত হলেও নাফ নদী সংলগ্ন সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হঠাৎ গোলাগুলির শব্দে নাফ নদীতে মাছ ধরতে থাকা বাংলাদেশি জেলেরা দ্রুত নিরাপদ স্থানে ফিরে আসেন।
স্থানীয় সূত্র ও জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে প্রায় ১০টা পর্যন্ত প্রায় ৩০ মিনিট ধরে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে নাফ নদীর তীরবর্তী এলাকায় থেমে থেমে শতাধিক গুলির শব্দ শোনা যায়। এ সময় নদীতে অবস্থানরত জেলেরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকেই মাছ ধরার জাল ও সরঞ্জাম গুটিয়ে দ্রুত তীরের দিকে ফিরে আসেন।

নাফ নদীতে মাছ ধরতে যাওয়া কয়েকজন জেলে টাইমস অব বাংলাদেশ-কে জানান, সকালে নদীর উত্তরাংশে একটি লাল রঙের দ্রুতগামী স্পিডবোট চলতে দেখেন তারা। এর কিছুক্ষণ পরই মিয়ানমারের ভেতর থেকে একের পর এক গুলির শব্দ ভেসে আসে। হঠাৎ এ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় কে বা কারা গুলি চালাচ্ছিল তা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারেননি তারা। তবে গোলাগুলির তীব্র শব্দে নদীতে থাকা সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
মৎস্যজীবী রশিদ আমিন টাইমস অব বাংলাদেশ-কে বলেন, ‘প্রথমে ভেবেছিলাম হয়তো সাধারণ কোনো শব্দ। কিন্তু পরপর গুলি শুরু হলে আমরা আর নদীতে থাকার সাহস পাইনি। দ্রুত নিরাপদে চলে আসি। প্রায় ৩০ মিনিট মতো গোলাগুলি চলতে থাকে।’
স্থানীয়দের দাবি, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান অস্থিরতার প্রভাব প্রায়ই টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় এসে পড়ছে। বিশেষ করে নাফ নদীঘেঁষা এলাকাগুলোতে মাঝেমধ্যে গোলাগুলি, বিস্ফোরণ কিংবা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর চলাচলের খবর পাওয়া যায়। এতে সীমান্তবর্তী জনপদে বসবাসকারী মানুষ ও জেলেদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ বিরাজ করছে।
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন-২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া জানান, টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা সীমান্তসংলগ্ন নাফ নদীর ওপারে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে আরাকান আর্মি ও একটি রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। তবে ঘটনাটি মিয়ানমারের অভ্যন্তরেই ঘটেছে। আধাঘন্টা ধরে চলা সংঘর্ষে কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায় নি।
তিনি বলেন ‘মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির কারণে সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের সংঘর্ষ নিয়মিত ঘটে থাকে। বাংলাদেশ সীমান্তে যাতে এর কোনো প্রভাব না পড়ে সেজন্য বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’
নাফ নদী ও সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় ও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।


