প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ এবং সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আগামী ৭ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই আদেশ দেন।
এর আগে, প্রসিকিউশন জানায়, জুলাইয়ে গণহত্যার অভিযোগে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে এবং গুমের অভিযোগে শেখ মামুন খালেদকে ট্রাইব্যুনালের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আলাদা আবেদন করা হয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।
এদিকে, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে ফের সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে পুলিশ। রোববার ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রায়হানুর রহমান এই আবেদন করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখ করেন, পাঁচ দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য পাওয়া গেলেও তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনো সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে আসামিকে আবারও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, পল্টন এলাকার একটি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক আলতাব খান অভিযোগ করেন, একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচার চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে আসছে। চক্রটি প্রতিজনের কাছ থেকে নির্ধারিত সরকারি ফি’র বাইরে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে আদায় করত।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের মে পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ৮৪১ জন শ্রমিকের বিপরীতে মোট ১২ কোটি ৫৬ লাখ ১ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এ ছাড়া, প্রতারণা ও জোরপূর্বক অর্থ আদায়ের কারণে ভুক্তভোগীর মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, চক্রটি শ্রমিকদের বিদেশে পাঠিয়ে অনেক ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুত চাকরি না দিয়ে তাদের জোরপূর্বক কাজে নিয়োজিত করে এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়।
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় আসামির কাছ থেকে এজেন্সি নির্বাচন প্রক্রিয়া, মালয়েশিয়া সরকারের কেন্দ্রীয় অনলাইন পদ্ধতি এফডব্লিউসিএমএস’র কার্যক্রম, মালয়েশিয়ায় প্রেরিত কর্মীদের সংখ্যা, ফেরত আসা শ্রমিকদের তথ্য, মেডিকেল ফি আদায়ের হিসাবসহ বিভিন্ন বিষয়ে অসংগতিপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া, পলাতক আসামিদের গ্রেফতার, আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধার এবং ওয়ার্ক পারমিট সংক্রান্ত নথিপত্র যাচাইয়ের জন্যও আসামিকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়। পুলিশ বলছে, মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে মাসুদ উদ্দিনকে পুনরায় সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
গত বুধবার রাত ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে রাজধানীর ডিওএইচএস এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে মামুন খালেদকে আটক করে ডিবি পুলিশ। পরে জুলাই আন্দোলনে মিরপুর মডেল থানায় করা একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
অন্যদিকে, গত সোমবার রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, তার বিরুদ্ধে ‘পাঁচটির মতো’ মামলা রয়েছে।


