ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) আয়োজনে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগে ‘জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং ও কুইজ প্রতিযোগিতা-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই আয়োজনের বাস্তবায়ন সহযোগী হিসেবে ছিল ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি (এনএসএ)।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শনিবার বিকালে সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন মাভাবিপ্রবির নবনিযুক্ত ভাইস-চ্যান্সেলর এবিএম শহিদুল ইসলাম। রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান তালুকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন মোহাম্মদ মতিউর রহমান এবং সায়েন্স অনুষদের ডিন মুহাম্মদ রবিউল ইসলাম লিটন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সিএসই বিভাগের অধ্যাপক মো. মোস্তফা কামাল নাসির ও আইসিটি বিভাগের শিক্ষক জিয়াউর রহমান।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি নবনিযুক্ত ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই আমার প্রথম কার্যদিবস। আর প্রথম দিনেই দেশের মেধাবী তরুণ শিক্ষার্থীদের এমন একটি জ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর আয়োজনে অংশ নিতে পারা আমার জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়।’
‘আমি মনে করি, এটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক সূচনা নয়; বরং এটি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের সঙ্গে পথচলার এক অনুপ্রেরণাময় শুরু। আজ আমি যাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছি, তোমরাই আগামী দিনের বিজ্ঞানী, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, গবেষক, উদ্যোক্তা এবং দেশের নেতৃত্বদানকারী নাগরিক,’ যোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তি ও জ্ঞানই সবচেয়ে বড় শক্তি। যে জাতি প্রযুক্তিতে দক্ষ, সেই জাতিই বিশ্বে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই স্কুল পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের প্রোগ্রামিং, যুক্তিভিত্তিক চিন্তা ও সাধারণ জ্ঞানের চর্চায় উদ্বুদ্ধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রতিযোগিতা সেই মহৎ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই আয়োজন করা হয়েছে, এজন্য আমি আয়োজকদের আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।’
এবারের প্রোগ্রামিং ও কুইজ প্রতিযোগিতায় টাঙ্গাইলের বিভিন্ন হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় জুনিয়র (৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণি), সেকেন্ডারি (৯ম থেকে ১০ম শ্রেণি) ও সিনিয়র (একাদশ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি)—এই তিন গ্রুপে মোট ২৭ জন শিক্ষার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। অন্যদিকে, কুইজ প্রতিযোগিতায় জুনিয়র ও সিনিয়র গ্রুপে অংশগ্রহণ করে ১০১ জন শিক্ষার্থী।
প্রতিযোগিতা শেষে প্রোগ্রামিংয়ের তিন গ্রুপ থেকে বিজয়ী আটজন এবং কুইজ প্রতিযোগিতার দুই গ্রুপ থেকে বিজয়ী ২০ জন শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।


