সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে বুধবার সকাল থেকেই ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে শোকার্ত মানুষের ঢল নেমেছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই উপস্থিতি জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন এখানে। বিএনপির নেতাকর্মীদের চোখে মুখে তাদের দেশনেত্রীকে হারানোর বেদনা। তবে শুধু বিএনপির সমর্থকই না সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও লক্ষণীয়।
বুধবার সকাল সাড়ে দশটায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে গিয়ে দেখা যায়, জানাজার আগেই হাজার হাজার মানুষ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অবস্থান করছেন। দেশের নানা প্রান্ত থেকে তারা জানাজায় অংশ নিতে এসেছেন।
রাজশাহী থেকে আসা দলীয় কর্মী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) ছিলেন আমাদের জন্য প্রেরণার বাতিঘর। তিনি কখনও অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। তার এই আপোষহীন নেতৃত্ব আমাদের আজীবন পথ দেখাবে। তাকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে এবং জানাজায় শরিক হতে আমরা এক দিন আগেই ঢাকায় পৌঁছেছি।’

সিলেট থেকে জানাজায় অংশ নিতে আসা তরুণ আসিফ আহমেদ বলেন, ‘খালেদা জিয়া শুধু একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন গণতন্ত্রের মা। প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দেশের মাটি ছেড়ে কোথাও যাননি। আজ আমরা আমাদের অভিভাবককে হারালাম। তার বিদায় আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।’
রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বুধবার দুপুর ২টায় খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজার আয়োজনে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে মঙ্গলবার রাতে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর।

জানাজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এবং সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে মোট ২৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা এবং জিয়া উদ্যান সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সদস্যরা টহল দিচ্ছেন।
জানাজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে বিশেষ ট্রাফিক নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। জানাজায় আসা মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে মিরপুর সড়ক ব্যবহার করে কোনো গাড়িকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ অভিমুখে না যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নিরাপত্তার স্বার্থে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের আড়ং সংলগ্ন প্রবেশপথটি সাধারণ মানুষের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে বিকল্প হিসেবে খামারবাড়ি ও বিজয় সরণি এলাকার পথগুলো উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। জানাজায় অংশ নিতে আসা মানুষ এই নির্ধারিত পথগুলো ব্যবহার করে সমাবেশস্থলে যাচ্ছেন।
জানাজা শেষে খালেদা জিয়াকে সংসদের উত্তর পাশে চন্দ্রিমা উদ্যানে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হবে।
মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান খালেদা জিয়া। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, কিডনির জটিলতাসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।


