মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে ভাবি ও দেড় বছরের ভাতিজাকে হত্যার ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। ঈদের কয়েক দিন আগে সাভারে বসে ওই হত্যার নীলনকশা করা হয়।
বুধবার বিকালে সংবাদ সম্মেলনে মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার সারওয়ার আলম এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘পারিবারিক বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।’
পুলিশ সুপার জানান, মঙ্গলবার রাতে ডিবি ও দৌলতপুর থানা পুলিশ ঢাকার মিরপুর বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে নিহত গৃহবধূর দেবর অভিযুক্ত ইউসুফ মোল্লা ও সুমন হোসেনকে গ্রেপ্তার করে।
ইউসুফ কাচারীপাড়া গ্রামের মৃত সুলতান মোল্লার ছেলে। তিনি ঢাকায় ফ্রিল্যান্সিং করতেন। সুমন একই গ্রামের পিন্টু মিয়ার ছেলে। সম্পর্কে তারা মামা-ভাগনে।
পুলিশ জানায়, ঈদের চার-পাঁচ দিন আগে সাভারে বোনের বাসায় ভাগনে সুমন ও সবুজকে নিয়ে হত্যার পরিকল্পনা করেন ইউসুফ। এরপর তিনি গ্রামে আসেন।
গত ৩০ মে রাতে কাচারীপাড়া এলাকায় ওই হত্যাকাণ্ড ঘটে। রাত ৯টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে বড় ভাই আব্দুস সালাম মোল্লাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন ইউসুফ। এর আগেই তিনি ভাবি আমেনা খাতুন (৩২) ও ভাতিজা আসলাম হোসেন আসাদকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেন।
হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি হাতুড়ির মধ্যে একটি বাড়িতেই ছিল। অন্যটি সবুজ নামের এক সহযোগী বাজার থেকে কিনে আনে। পুলিশ হাতুড়ি দুটি উদ্ধার করেছে।
জিজ্ঞাসাবাদে ইউসুফ জানান, তার বড় ভাই ও ভাবি ছোট ভাই-বোনদের খোঁজ নিতেন না। পারিবারিক ব্যবসা নিয়েও ক্ষোভ ছিল। এসব কারণে মামা-ভাগনে মিলে হত্যার পরিকল্পনা করেন তিনি। হত্যার পর বাড়িতে আগুন দেওয়ারও পরিকল্পনা ছিল।
পুলিশ সুপার বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৩১ মে নিহত আমেনার মা মিনা খাতুন বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলা করেন। পলাতক আসামি সবুজকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার সরকার বলেন, ‘মামলার পর থেকেই অভিযান চলছিল। মঙ্গলবার রাতে ঢাকা থেকে ইউসুফ ও সুমনকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে পাঠানো হয়েছে।’


