দেশের পাঁচ বিভাগে একটি করে ২০০ শয্যার বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করবে সরকার। হাসপাতালগুলো সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হবে এবং এতে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) সুবিধা থাকবে।
আগামী ছয় মাসের মধ্যে এসব হাসপাতাল উদ্বোধন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এই প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী ও কুমিল্লায় এই হাসপাতালগুলো নির্মাণ করা হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, পাঁচটি হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম সংগ্রহের কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। আমরা আগামী ছয় মাসের মধ্যে এগুলো উদ্বোধন করার পরিকল্পনা করছি।
প্রতিটি হাসপাতালের জন্য ১ হাজার ৪৭৫ জন কর্মী প্রয়োজন হবে উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে আগামীকাল একটি বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জনবল বরাদ্দ অনুমোদিত হলে আমরা অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে আর্থিক ছাড়পত্র পাব এবং ইনশাআল্লাহ, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে এই পাঁচটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল উদ্বোধন করা হবে। তবে সরঞ্জাম আমদানিতে কোনো বিলম্ব হলে উদ্বোধন ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে ‘অমানবিক পরিস্থিতিতে’ বসবাস করছেন। স্বাস্থ্য খাতে বছরের পর বছর ধরে চলা দুর্নীতি ও অবহেলাই এর জন্য দায়ী। আমরা দুর্নীতির সেই চক্র থেকে বেরিয়ে এসে একটি দুর্নীতিমুক্ত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা এবং দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই।
তিনি জানান, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে একটি নতুন আবাসন প্রকল্পের মাধ্যমে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আবাসিক সুবিধার উন্নয়ন করা হবে। গণপূর্ত অধিদপ্তর ইতিমধ্যে প্রকল্পটির রূপরেখা তৈরি করেছে এবং শিগগির দরপত্র আহ্বান করা হবে।
মিটফোর্ড হাসপাতালের বেশ কয়েকটি ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কিছু ভবন ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। সেখান থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং নতুন অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।
এ ছাড়া, চীনের অর্থায়নে প্রধান প্রধান শহর বা এর কাছাকাছি এলাকায় পাঁচটি এক হাজার শয্যার বিশেষায়িত মাতৃত্বকালীন হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার।
আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে উন্মুক্ত স্থানে এই হাসপাতালগুলো নির্মাণ করা হবে এবং চলতি অর্থবছরের মধ্যেই এগুলোর নির্মাণ কাজ শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আগামী ১৫ আগস্ট একটি নতুন নিনমাস ভবন উদ্বোধনের জন্য নির্ধারিত রয়েছে, যার সরঞ্জাম ও জনবলসহ সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।


