দেশে চলতি বছরের এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৯ হাজার ১৪৭ জনে। এ পর্যন্ত মোট ১৭৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে আরও ৭৪৭ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে এই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
একই সময়ে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭৪৬ জন।
বর্তমানে দেশে মোট ৪ হাজার ১৩৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চলতি বছরে এ পর্যন্ত সর্বমোট ৫৪ হাজার ৮৩৮ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া ৭৪৭ জন রোগীর মধ্যে ৫০৫ জন পুরুষ (৬৭ দশমিক ৬ শতাংশ) এবং ২৪২ জন নারী (৩২ দশমিক ৪ শতাংশ)।
এর মধ্যে ঢাকা বিভাগের (সিটি করপোরেশনের বাইরে) হাসপাতালগুলোতে সর্বোচ্চ ২১৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) ৮০ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) ৫২, চট্টগ্রাম বিভাগে ৬১, বরিশাল বিভাগে ১৫, খুলনা বিভাগে ৮১, ময়মনসিংহ বিভাগে ৯১ এবং রংপুর বিভাগে ৫২ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ রোগী ৬২ দশমিক ৬ শতাংশ (৩৬ হাজার ৮৭৬ জন) এবং নারী রোগী ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ (২২ হাজার ৩০ জন)।
আক্রান্তের হারে পুরুষ এগিয়ে থাকলেও মৃত্যুর পরিসংখ্যানে নারীদের সংখ্যা বেশি। মোট ১৭৬ জন মৃতের মধ্যে ৫২ দশমিক ৬ শতাংশ (৯২ জন) নারী এবং ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ (৮৩ জন) পুরুষ।
অঞ্চলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সিটি করপোরেশনের বাইরে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৪৪ হাজার ৮০১ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১০১ জনের। সিটি করপোরেশনগুলোর ভেতরে মোট আক্রান্ত ১৩ হাজার ৯৮০ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৭৪ জনের।
একক এলাকা হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) সর্বোচ্চ ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ৩২ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) ২৩, ময়মনসিংহে ১৮, চট্টগ্রামে ১৬, বরিশালে ১৩, ঢাকার বাইরে ঢাকা বিভাগে ১০, রাজশাহীতে ৮, রংপুরে ৪ এবং সিলেটে ১ জন মারা গেছেন।
মাসভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৮ দিনেই আক্রান্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৩০১ জনে, যা গত আগস্টের চেয়েও বেশি। ওই মাসে আক্রান্ত ছিলেন ২০ হাজার ৫৩৬ জন এবং মারা যান ৪৩ জন।
এর আগের মাসগুলোতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কম ছিল। জুলাইয়ে ৯ হাজার ২০৬ জন আক্রান্তের মধ্যে ৩৬ জন এবং জুনে ২ হাজার ৯০৭ জনের মধ্যে ১৩ জন মারা যান। মে মাসে আক্রান্ত হন ৭১৪ জন, মারা যান ১ জন।
বছরজুড়ে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি স্পষ্ট হয় বছরের প্রথম দিককার তথ্যে। এপ্রিলে ৬৪০ জন, মার্চে ৩৫৩ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯ জন এবং জানুয়ারিতে ১ হাজার ৮১ জন আক্রান্ত হন। এর মধ্যে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ২ জন করে মোট ৪ জনের মৃত্যু হয়।
মাসভিত্তিক তথ্যে দেখা যায়, সেপ্টেম্বরের প্রথম ১৮ দিনে আক্রান্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৩০১ জনে, যা গত আগস্টের চেয়েও বেশি। ওই মাসে আক্রান্ত ছিলেন ২০ হাজার ৫৩৬ জন এবং মারা যান ৪৩ জন।
এর আগের মাসগুলোতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কম ছিল। জুলাইয়ে ৯ হাজার ২০৬ জন আক্রান্তের মধ্যে ৩৬ জন এবং জুনে ২ হাজার ৯০৭ জনের মধ্যে ১৩ জন মারা যান। মে মাসে আক্রান্ত হন ৭১৪ জন, মারা যান ১ জন।
এপ্রিলে ৬৪০ জন, মার্চে ৩৫৩ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯ জন এবং জানুয়ারিতে ১ হাজার ৮১ জন আক্রান্ত হন। এর মধ্যে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ২ জন করে মোট ৪ জনের মৃত্যু হয়।


