কোরবানির ঈদের আর মাত্র তিন দিন বাকি। অথচ মানিকগঞ্জের পশুর খামারগুলোতে এখনো কাঙ্ক্ষিত ক্রেতার দেখা মিলছে না। গত বছর ভালো লভ্যাংশ পাওয়ায় এবার জেলার খামারিরা বেশ উৎসাহ নিয়ে গরু-ছাগলের পাশাপাশি বিভিন্ন জাতের মহিষও লালন-পালন করেছিলেন। তবে ভরা মৌসুমেও বাজার মন্দা থাকায় চরম হতাশায় দিন কাটছে তাদের।
জেলার বিভিন্ন খামার ঘুরে দেখা গেছে, শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততায় পশুকে গোসল করানো ও প্রাকৃতিক খাবার দেওয়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। সারা বছর ধরে পুঁজি ও শ্রম বিনিয়োগ করে পশুকে বড় করার পর কোরবানির এই সময়েই মূলত খামারিরা তাদের দেনা পরিশোধ ও পরিবারের খরচ তোলার স্বপ্ন দেখেন।
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পালড়া এলাকার একটি ডেইরি ফার্মে এবার গরুর পাশাপাশি চারটি বিশাল আকৃতির কালো মহিষ প্রস্তুত করা হয়েছে। খামারের মালিক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এটি শুধু আমাদের ব্যবসা নয়, বাপ-দাদার ঐতিহ্য। ছোটবেলা থেকে এই পেশা দেখে আসছি। বাবা নেই, তবু তাদের স্মৃতি ধরে রেখেছি। কিন্তু এবার এখনো কোনো ভালো ক্রেতার দেখা পাচ্ছি না।’
একই উপজেলার আরেকটি এগ্রোফার্মে এবার প্রথমবারের মতো নিয়ে আসা হয়েছে চারটি ব্যতিক্রমী ‘অ্যালবিনো’ বা সাদা মহিষ। শান্ত স্বভাব আর দৃষ্টিনন্দন রঙের কারণে এই মহিষগুলো দেখতে খামারে প্রতিদিন মানুষ ভিড় করলেও বিক্রি হচ্ছে না। খামারের মালিক সাফায়েত সালাস জানান, চার বছর ধরে খামার করছি। এবার নতুনত্ব আনতে সাদা মহিষ পালন করেছি। মানুষ দেখতে এসে ছবি তুলছে, কিন্তু কেনার লোক খুব কম।
একই চিত্র সিংগাইর উপজেলার উত্তর কানাইনগর গ্রামেও। সেখানকার ‘চার ভাই ডেইরী এন্ড এগ্রো’ খামারের মালিক ইদ্রিস মোল্লা বলেন, ‘অন্য বছর এই সময়ে খামারের প্রায় সব গরু বিক্রি হয়ে যায়। এবার ঈদের মাত্র তিন দিন বাকি থাকলেও খদ্দের নেই। বিক্রি করতে না পারলে বড় ধরনের লোকসানে পড়তে হবে।’
খামারিরা জানান, সম্পূর্ণ দেশীয় ঘাস, খৈল ও কুঁড়ো খাইয়ে প্রাকৃতিকভাবেই এসব পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। সাধারণত দূর-দূরান্ত থেকে আসা পাইকাররা খামার থেকেই পশু কিনে নিয়ে যান। কিন্তু এবার খামারে ক্রেতা না আসায় বাধ্য হয়ে শেষ ভরসা হিসেবে পশুর হাটের দিকে তাকাতে হচ্ছে তাদের।
জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মানিকগঞ্জে কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৬৫ হাজার ৮৭০টি। এর বিপরীতে খামারিরা প্রস্তুত করেছেন ৯৯ হাজার ৭১১টি গবাদিপশু। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩৩ হাজার ৮৪১টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে, যা ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলার পশুর হাটগুলোতে সরবরাহ করা হবে।
মানিকগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান বলেন, ‘জেলায় প্রচুর প্রাকৃতিক ঘাস জন্মানোর কারণে এখানকার পশুগুলো বেশ সুস্থ ও সবল হয়, যার ফলে খামারিদের উৎপাদন খরচও কিছুটা কম। এ বছর জেলায় কোরবানির পশুর কোনো ঘাটতি নেই, বরং চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।’


