সংশোধন করে আকার কমানো এবং অর্থবছরের শেষ মাসে ব্যয় বাড়িয়েও সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়নে ধস নেমেছে।
সংশোধিত এডিপির বিপরীতে বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬৭ দশমিক ৫২ শতাংশ। বাস্তবায়নের হার বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বনিম্ন বলে পরিকল্পনা কমিশনের পরীবিক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) কর্মকর্তারা।
বৃহস্পতিবার এডিপি বাস্তবায়নের হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, গত কয়েক বছর ধরেই এডিপি বাস্তবায়নের হার ধারাবাহিকভাবে কমছে।
২০২১-২২ অর্থবছরে বাস্তবায়নের হার ছিল ৯২ দশমিক ৭৪ শতাংশ। পরের অর্থবছরে তা কমে ৮৫ দশমিক ১৭ শতাংশে দাঁড়ায়।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাস্তবায়ন হয় ৮০ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা নেমে আসে ৬৮ দশমিক ১৮ শতাংশে।
সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আরও কমে যায়। যদিও এই অর্থবছরের শেষ মাস জুনে ব্যয় হয়েছে ৪০ হাজার ৩০৮ কোটি ১২ লাখ টাকা, যা সংশোধিত এডিপির ১৯ দশমিক ২৯ শতাংশ।
আগের অর্থবছরেরও একই মাসে ব্যয় হয়েছিল ৪৩ হাজার ১৮৯ কোটি ১০ লাখ টাকা, যা ছিল সংশোধিত এডিপির ১৯ দশমিক ৯১ শতাংশ।
সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মূল এডিপি ধরা হয়েছিল ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। পরে তা সংশোধন করে ২ লাখ ৮ হাজার ৯৩৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকায় নামানো হয়।
২১ হাজার কোটি টাকার কমানোর পরেও বাস্তবায়নের হারের নিম্নগতির জন্য বেশ কিছু কারণ তুলে ধরেছেন আইএমইডির কর্মকর্তারা।
তারা জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মাঝামাঝি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের সময় প্রশাসনে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়। সে সময় অনেক উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক ও ঠিকাদার কাজ ছেড়ে চলে যাওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
সেই অস্থিরতার প্রভাব ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও পুরোপুরি কাটেনি। একই সঙ্গে নির্বাচনকেন্দ্রিক নানা কার্যক্রমে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মনোযোগ বিভক্ত থাকায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি আরও শ্লথ হয়।
মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ভিত্তিতে এডিপি বাস্তবায়নের চিত্রেও বড় ধরনের ফারাক দেখা গেছে। সবচেয়ে কম বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ।
অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি এডিপি বাস্তবায়ন করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর পরের অবস্থানে রয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, সংসদ বিষয়ক সচিবালয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং কৃষি মন্ত্রণালয়।


