জাতীয় মানবাধিকার কমিশন নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ বাতিল হওয়ায় একটি খোলা চিঠি দিয়েছেন কমিশনাররা। এতে ‘সংসদে উপস্থাপিত ভুল তথ্যের জবাব’, ‘সরকারের প্রকৃত আপত্তি’ ও ‘ভবিষ্যৎ আইনের গুণগত মান নিয়ে প্রস্তাবনা’ শীর্ষক তিনটি অংশ রয়েছে।
এদিকে, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশে শাস্তি-সংক্রান্ত বিষয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কয়েকজন সদস্য খোলা চিঠিতে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ ভুল।
সোমবার এ খোলা চিঠি দেওয়া হয়। এতে সই করেন কমিশনের চেয়ারম্যান মইনুল ইসলাম চৌধুরী, সদস্য নুর খান, ইলিরা দেওয়ান, মো. শরিফুল ইসলাম ও নাবিলা ইদ্রিসের।
আইনমন্ত্রী বলেন, তারা যা বলেছেন, তা সম্পূর্ণ ভুল ব্যাখ্যা। আপনি যদি আইনটি দেখেন, সেখানে স্পষ্টভাবে বলা আছে, শাস্তি হতে পারে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ বছর। এখন সর্বোচ্চ ১০ বছর বলতে কী বোঝায়? এর অর্থ ১০ বছরের বেশি নয়। সুতরাং, সর্বোচ্চ ১০ বছর মানে আদালতের এখতিয়ার আছে এক ঘণ্টা, একদিন, এক মাস বা এই সীমার মধ্যে যেকোনো সময়ের শাস্তি দেওয়ার। তাহলে এটি কীভাবে পরস্পরবিরোধী হয়?
আরও পড়ুন: মানবাধিকার কমিশনে ‘বিভ্রান্তি’: পাঁচ কমিশনারের খোলা চিঠি
তিনি বলেন, তারা বিষয়টি স্পষ্টভাবে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। আমি সব সংবাদ সম্মেলনে বলেছি, একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। কিন্তু প্রতিবেদন পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নিতে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দেশনা নেই।
খোলা চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে সংসদে দেওয়া বক্তব্যের বিষয়ে আপনি কোনো লিখিত জবাব প্রস্তুত বা পাঠিয়েছেন কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, তাদের উত্থাপিত বিষয়গুলো ভুল ধারণার ওপর ও সঠিক নয়।
তিনি বলেন, ‘আমি কেন তাদের লিখিত জবাব দেব? জবাব দেওয়ার প্রয়োজন নেই। আমি মনে করি, দেশের মানুষ বিষয়টি বুঝতে পারে।’
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশের ৪ ধারাতেই বলা আছে, শাস্তি হবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ বছর। ‘সর্বোচ্চ ১০ বছর’ স্পষ্টভাবে ‘১০ বছরের বেশি নয়’এই অর্থই বোঝায়, যোগ করেন তিনি।


