কলকাতায় বাংলাদেশ থেকে আসা রোগীর সংখ্যা কমছে

কলকাতায় বাংলাদেশ থেকে আসা রোগীর সংখ্যা কমছে
Advertisement
Advertisement

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতায় নিউমার্কেট এলাকার একটি হোটেলে আগুনে সাতজন বাংলাদেশিসহ নয়জনের মৃত্যুর ঘটনার পর চিকিৎসার জন্য সেখানে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া রোগীর সংখ্যা কমে গেছে। শহরের বেশ কয়েকটি হাসপাতাল জানিয়েছে, আগুনের আগের সময়ের তুলনায় এখন বাংলাদেশ থেকে আসা রোগীর সংখ্যা শতকরা ৩০ থেকে ৪০ ভাগ পর্যন্ত কমে গেছে।

গত ১৯ আগস্ট ‘শিখা ইন’ নামের ওই হোটেলে আগুন লাগে। এ ঘটনার পর প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ নেয়। মধ্য কলকাতাসহ যেসব এলাকার হোটেল ও গেস্ট হাউসে সাধারণত বাংলাদেশি রোগী ও তাদের স্বজনেরা থাকতেন, এমন ১০০টিরও বেশি হোটেল-গেস্ট হাউস বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।

হাসপাতালগুলো জানায়, এসব হোটেল-গেস্ট হাউস বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর রোগী ও তাদের স্বজনদের  থাকার জন্য কম খরচে ঘর পাওয়া খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। আর এই আবাসন সমস্যার কারণেই বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসার জন্য আসা মানুষের সংখ্যা কমে গেছে।

রুবি জেনারেল হাসপাতালে বাংলাদেশ থেকে আসা রোগীর সংখ্যা বেশ কমেছে। হাসপাতালের বিপি পোদ্দার ইউনিটের প্রতিনিধি শুভাশিস দত্ত জানান, বর্তমানে মাত্র চারজন বাংলাদেশি রোগী ভর্তি আছেন।

তিনি আরও জানান, আগস্টের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রতিদিন আউটডোরে যেখানে প্রায় ৪০ জন রোগী সেবা নিতে আসতেন, এখন সেই সংখ্যা নেমে এসেছে ২০ জনে।

আরও পড়ুন

শুভাশিস দত্তের মতে, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে কলকাতায় আসা নিরাপদ কি না—এমন দ্বিধাদ্বন্দ্ব আর আত্মবিশ্বাসের অভাবেও হয়তো অনেকে আসতে চাইছেন না।’

বিপি পোদ্দার হাসপাতাল সম্প্রতি রোগীদের সঙ্গে কথা বলতে বাংলাদেশে একটি প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছিল। তারা জানায়, আউটডোরে বাংলাদেশ থেকে প্রতিদিন ১০-১১ জন রোগী আসলেও এখন তা কমে ৫-৬ জনে নেমেছে। চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোর কাছে থাকা মধ্য কলকাতার হোটেলগুলো বন্ধ হওয়ায় আবাসন সমস্যাই এখন প্রধান বাধা। তবে হাসপাতালটি রোগীদের দক্ষিণ কলকাতায় থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

ডেসুন হাসপাতালেও বাংলাদেশি রোগীর সংখ্যা কিছুটা কমেছে। গত এক মাসে তারা প্রায় ৫০০ জন নতুন রোগী পেয়েছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ১৫ শতাংশ কম। তবে হাসপাতালের চেয়ারম্যান ড. সজল দত্ত জানান, তাদের হেল্প ডেস্ক থেকে রোগীদের হাসপাতালের দুই কিলোমিটারের মধ্যেই থাকার জায়গা খুঁজে দেওয়া হচ্ছে এবং পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে।

পিয়ারলেস হাসপাতালের সিইও সুদীপ্ত মিত্র বলেন, এই অগ্নিকাণ্ডের পরও তাদের হাসপাতালে বাংলাদেশি রোগীর সংখ্যায় তেমন বড় কোনো প্রভাব পড়েনি।

অন্যদিকে, আরএন ঠাকুর নারায়ণ হাসপাতালেও এর প্রভাব ছিল সীমিত। বর্তমানে তাদের আউটডোরে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০ জন বাংলাদেশি রোগী আসছেন। নারায়ণ হেলথ-এর গ্রুপ সিওও আর ভেঙ্কটেশ জানান, আগের মাসের তুলনায় রোগীদের আসার হার ৬ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বর্তমানে সব মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২৫০ জন রোগী তাদের আউটডোরে সেবা নিচ্ছেন।

হোটেলের দুর্ঘটনা ও গেস্ট হাউস বন্ধের কারণে কলকাতার মেডিকেল ট্যুরিজম ধাক্কা খেলেও রোগীদের আসা একেবারে বন্ধ হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মতে, রোগীদের জন্য নিরাপদ ও কম খরচে থাকার ব্যবস্থা আবার নিশ্চিত করা গেলেই পরিস্থিতি আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad