কক্সবাজারের টেকনাফে মাদক ও মানবপাচার দমনে শিগগিরই পরিকল্পিত ও সমন্বিত অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও জোরালোভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে দেশকে মাদকমুক্ত করা এবং সমুদ্রপথে মানবপাচার সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা সম্ভব হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে টেকনাফ এজাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সমন্বিত অভিযানের হুঁশিয়ারি দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘টেকনাফ, উখিয়া ও কক্সবাজার অঞ্চলে মানবপাচার বর্তমানে একটি গুরুতর সমস্যা। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি সমন্বিত অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
এ সময় তিনি অপরাধ দমনে সাধারণ জনগণকে তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, বর্তমানে জুয়া ও অনলাইন জুয়া ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সরকার এ বিষয়ে গবেষণা করছে এবং এটি নির্মূলে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ১ হাজার ৬৯৮ জন কৃষকের মাঝে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, লুৎফুর রহমান কাজল, আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ, জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান এবং পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমানসহ বিজিবি ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
স্থলবন্দর পরিদর্শন ও সচল করার উদ্যোগ একই দিন সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টেকনাফ স্থলবন্দর পরিদর্শন করেন। মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার কারণে দীর্ঘ এক বছর ধরে এই বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বন্দরটি সচল করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি ইতিবাচক ইঙ্গিত দেন।
উল্লেখ্য, বন্দরটি বন্ধ থাকায় সরকার যেমন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছে। বন্দরটি পুনরায় চালু হলে স্থানীয় অর্থনীতি চাঙা হওয়ার পাশাপাশি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আবারও প্রাণ ফিরে পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


