জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে রাশেদ খান মেনন ও কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের উদ্বোধনী বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ২৩ জুন দিন ধার্য করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
বুধবার উদ্বোধনী বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর কথা থাকলেও প্রসিকিউটর আবদুস সাত্তার পালোয়ান সময়ের আবেদন করলে আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করে।
এর আগে, গত ৩০ এপ্রিল ট্রাইব্যুনাল এ মামলায় অভিযোগ গঠন করে। এর মধ্য দিয়ে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে দুই আসামিই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।
গত ২ মার্চ অভিযোগ গঠনের শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, রাশেদ খান মেনন ও কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউশনের দাবি, শেখ হাসিনার সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে তারা বিভিন্ন সময় উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। আওয়ামী লীগ সরকার ও ১৪-দলীয় জোটের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা হিসেবে তারা নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে মারণাস্ত্র ব্যবহারে এবং কারফিউ জারিতে প্ররোচনা দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে রাজধানীর বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়।
শুনানিতে প্রসিকিউশন অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আবেদন জানায়, যা ট্রাইব্যুনাল মঞ্জুর করে। অপরদিকে, আসামিদের অব্যাহতির আবেদন করেন তাদের আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। ট্রাইব্যুনাল সেই আবেদন নাকচ করে।
এর আগে, গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাশেদ খান মেনন ও কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। অভিযোগ আমলে নিয়ে আদালত তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেয়।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর বাড্ডাসহ আশপাশের এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি ঘটনায় তারা সম্পৃক্ত ছিলেন। এসব ঘটনায় ২৩ জন নিহত হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাশেদ খান মেনন ও কামরুল ইসলাম গ্রেপ্তার হন। এরপর থেকে তারা কারাগারে রয়েছেন।


