মাদারীপুরের শিবচরে মাদবরের চর ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডে সেতু নির্মাণের আট বছর পার হয়ে গেলেও স্থাপন হয়নি সংযোগ সড়ক। ফলে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই উন্নয়ন প্রকল্প এলাকাবাসীর কোনো কাজেই আসছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় হলেও তারা এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আট বছর আগে স্থানীয় দুই ইউপি সদস্যের রেষারেষি এবং ক্ষমতার দাপটে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সে সময় মহিলা ইউপি সদস্য ও যুব মহিলা লীগ নেত্রী তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদ চৌধুরীর সহযোগিতায় প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সেতু নির্মাণ করেন। সেই সেতুর কাজ শেষ হতে না হতেই প্রশাসনে তদবির করে মাত্র ১০০ গজ দূরত্বে আরেকটি সেতু ও রাস্তা নির্মাণ করিয়ে খান বাড়ি এলাকার সাথে সংযোগ স্থাপন করেন ইউপি সদস্য আনোয়ার খান।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রথম সেতুটি নির্মাণের পর থেকে আজ পর্যন্ত এর দুই পাশে মাটি দিয়ে ভরাট করা হয়নি। কোনো সংযোগ সড়কও তৈরি করা হয়নি। রাস্তা না করেই কাজের সম্পূর্ণ বিল তুলে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
বর্তমানে অচল হয়ে পড়ে আছে এই সেতু। এলাকাবাসীর দাবি, পরিকল্পনার অভাব, সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতা ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বে এই জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মতে, একই স্থানে দুটি সেতুর কোনো দরকার ছিল না। বরং দ্বিতীয় সেতুর টাকা দিয়ে অন্য এলাকায় উন্নয়ন কাজ করা যেতো।
এছাড়া সেতু নির্মাণের সময়ই যদি সংযোগ সড়ক স্থাপনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হতো তাহলে আর এখনকার ভোগান্তি হতো না।
এক নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য মনির হোসেন জানান, তৎকালীন দুই সদস্যের ক্ষমতার প্রভাবে একই স্থানে দুটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। এটি রাষ্ট্রের অর্থের অপচয় যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তিনি আরও বলেন, আট বছর আগে নির্মিত সেতুটির দুই পাশে মাটি ফেলে রাস্তা তৈরি করলে অন্তত এলাকাবাসী যাতায়াতের সুবিধা পেত।
দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের মতে, সামান্য কিছু অর্থ বরাদ্দ এবং প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকলেই সেতুটি ব্যবহারযোগ্য করা সম্ভব।
সচেতন নাগরিক সমাজের মতে, এ ধরনের প্রকল্প গ্রহণের আগে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় থাকা জরুরি। একইসাথে উন্নয়ন কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা প্রয়োজন।


