দৈনিক প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় অজ্ঞাত ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
রোববার রাত ১২টার পর তেজগাঁও থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে এই মামলা করা হয়।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির মৃত্যুর পর বিক্ষুব্ধ জনতা রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলোর কার্যালয়ে ভাঙচুর-লুটপাট চালায়। পরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয় কার্যালয়।
এ ঘটনার চারদিন পর প্রথম আলোর পক্ষ থেকে মামলা করা হলো।
মামলায় দাঙ্গা সৃষ্টি করে অবৈধভাবে কার্যালয়ে ঢুকে লুটপাট, ক্ষতি করা, হত্যার উদ্দেশ্যে অগ্নিসংযোগ, ভয় দেখানো, অপরাধের প্রমাণ নষ্ট করার অভিযোগ করা হয়।
এছাড়া প্রথম আলো পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ ও অফিসের কাজে বাধা দিতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর, অনলাইনে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে নির্দেশনা দেওয়া ও অন্তর্ঘাতমূলক কাজের অভিযোগও আনা হয়।
এজাহারে বলা হয়েছে, হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের সময় লুটপাট করা সম্পদের মূল্য দুই কোটি ৫০ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে প্রথম আলোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমান ৩২ কোটি টাকা।
প্রথম আলোয় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে মামলার এজাহারের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে।
সেখানে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১১টার দিকে ২০ থেকে ৩০ জন অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারী দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা, দাহ্য পদার্থ নিয়ে মিছিল করে কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ের সামনে এসে হামলার চেষ্টা চালায়। পুলিশ বাধা দিলে তারা বেআইনিভাবে প্রথম আলো কার্যালয়ের সামনে সমবেত হয়ে উত্তেজনা সৃষ্টিকারী স্লোগান দেয়। বিভিন্ন জায়গায় ফোন করে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে তারা লোক জড়ো করে। প্রথম আলোতে হামলার জন্য উসকানিমূলক পোস্ট দিতে থাকে।
ঢাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে ৪০০ থেকে ৫০০ জন দুষ্কৃতকারী প্রথম আলো কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়। রাত ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে তারা প্রথম আলো কার্যালয়ের ফটকের কাচ ও শাটার ভেঙে ভাঙচুর, লুটপাট ও আগুন ধরিয়ে দেয়। তারা ভবনের সামনের কাচ ভেঙে আসবাবপত্র, মালপত্র, নথিপত্র নিচে ফেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। বিভিন্ন তলার দেড়শ কমপিউটার, ল্যাপটপ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, লকারে রাখা টাকা, প্রথমা প্রকাশনের বইপত্র লুট করে নিয়ে যায় দুষ্কৃতকারীরা। তারা ভবনের অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা নষ্ট করে ফেলে।
সাক্ষ্যপ্রমাণ নষ্ট করতে সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে। তারা ফায়ার সার্ভিসকেও আগুন নেভানোর কাজে বাধা দেয় বলে এজাহারে লেখা হয়েছে।


