কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দূর্গ মাদারীপুর। এই জেলার তিনটি আসনেই এখন বইছে নির্বাচনী হাওয়া। পাড়া-মহল্লা থেকে হাট-বাজার–সর্বত্রই প্রার্থীদের পদচারণায় মুখর। তবে আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেই। তাদের অনুপস্থিতিতে পাল্টে গেছে এখানকার ভোটের সমীকরণ।
মাঠের তথ্য অনুযায়ী, জেলার তিনটি আসনের মধ্যে দুটিতে বিএনপি প্রার্থীরা বেশ খোশ মেজাজে আছেন। আরেকটিতে বিএনপি এগিয়ে থাকলেও অতটা খোশ মেজাজে নেই। তাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী।
মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে এবার বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তার। তার বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন দলের বিদ্রোহী দুই নেতা সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী ও কামাল জামান মোল্লা। তাদের মধ্যে বিএনপি প্রথমে কামাল মোল্লাকে মনোনয়ন দিলেও পরে তাকে প্রত্যাহার করে নাদিরা আক্তারকে প্রার্থী করে। এ ছাড়া, জামায়াত-জোটের প্রার্থী হয়েছেন খেলাফত মজলিসের সাঈদ উদ্দিন আহমেদ হানজালা।
তবে এখানে জামায়াত জোটের তেমন কোনো অবস্থান নেই। বরং বিএনপি প্রার্থীর মাথাব্যথা ছিল দলের দুই বিদ্রোহীকে নিয়ে। বিশেষ করে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী কামাল মোল্লা, যিনি ২০০৮ সালে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে বিএনপিকে পেছনে ঠেলে দ্বিতীয় হয়েছিলেন।
শেষ পর্যন্ত চমক দেখিয়েছেন নাদিরা আক্তার। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা ও সংসদ সদস্য ইলিয়াস চৌধুরীর কবর জিয়ারত করেছেন তিনি। এর আগে নিশ্চিত করেছেন আওয়ামী লীগ পতনে ভেঙে যাওয়া সংসদের সদ্য সাবেক চিফ হুইপ পলাতক নূর-ই আলম চৌধুরী লিটনের সমর্থন। লিটন হচ্ছেন ইলিয়াস চৌধুরীর ছেলে।
লিটনের নেপথ্য নির্দেশনায় আওয়ামী লীগ সমর্থকরা এখন নাদিরা আক্তারের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছেন। ফলে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে এগিয়ে গেছেন তিনি।
অবশ্য হাল ছাড়তে রাজি নন দুই বিদ্রোহী। স্বতন্ত্র প্রার্থী ৭০ বছর বয়সী সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী ‘জীবনের পুরোটা সময় বিএনপির জন্য বিলিয়ে দিয়েছি। শিবচরে আমার বিশাল ভোট ব্যাংক আছে, তাই কাউকে ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।’
অন্যদিকে, আরেক বহিষ্কৃত নেতা কামাল জামান মোল্লার দাবি, তিনি বিজয়ী হয়ে আসনটি তারেক রহমানকে উপহার দেবেন।
মাদারীপুর-২ (সদর ও রাজৈর) আসনে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জাহান্দার আলী মিয়া। তার বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন দলের বিদ্রোহী নেতা মিল্টন বৈদ্য। এ ছাড়া জামায়াত-জোট থেকে আছেন খেলাফত মজলিসের আব্দুস সোবাহান।
স্থানীয় কর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের বিমুখতার কারণে কিছুটা হিমশিম খাচ্ছেন মির্টন বৈদ্য। ফলে তৃণমূলের সম্পৃক্ততা বিবেচনায় এখন পর্যন্ত এই আসনে এগিয়ে আছেন বিএনপির জাহান্দার আলী মিয়া।
মাদারীপুর-৩ (কালকিনিও ডাসার) আসনে ভোটের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। এখানে বিএনপির প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় নেতা আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন। দলে কোনো বিদ্রোহ নেই, স্বতন্ত্র প্রার্থীও নেই। তাই শুরুতে অনেকটা খোশমেজাজে ছিলেন তিনি।
তবে ভোট ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে মাঠে অনেকটা সরব হয়ে ওঠেছেন এখানকার জামায়াত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম। জেলার অন্য দুটি আসন খেলাফত মজলিসকে ছেড়ে দিলেও এই আসনে নিজেদের প্রার্থী দিয়েছে জামায়াত। তার পক্ষে কাজ করার জন্য অন্য দুই আসনের জামায়াত নেতারাও এখানে চলে এসেছেন। এতে খোকনের জন্য তৈরি হয়েছে নতুন চ্যালেঞ্জ। এরপরও এগিয়ে আছেন তিনি।
আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন বলেন, ‘১৭ বছর রাজপথে নির্যাতিত কর্মী হিসেবে আমি জনগণের আস্থায় আসতে পেরেছি এবং বিপুল ভোটে ধানের শীষের বিজয় ছিনিয়ে আনব।’


