বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, সারা দেশের মাদক সমস্যার সমাধান করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই দেশে ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট বেশি করে তৈরি করতে, যেখোনে যুব সমাজকে বিভিন্ন রকম ট্রেনিং দেওয়া হবে। যেন তারা বিদেশে যেমন যেতে পারে, তেমনি দেশেও কাজ করতে পারে।’
মঙ্গলবার ময়মনসিংহে নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি। নগরীর সার্কিট হাউস মাঠে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা নেতাকর্মী ও সমর্থকদের জমায়েতে মাঠ কানায় কানায় ভরে ওঠে।
ময়মনসিংহের মানুষের বড় সমস্যা চিকিৎসা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘এখানে আমরা জেলা হাসপাতালগুলোকে আরও বড় করতে চাই। এখানে হেলথ কেয়ারার নিয়োগ দিতে চাই। যারা গ্রামে গ্রামে, ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষকে চিকিৎসা দেবেন। আমরা চাই মা-বোনসহ শিশুরা যেন ঘরে বসে চিকিৎসা পেতে পারে। সেজন্য আমরা চিতিৎসা ব্যবস্থা উন্নত করতে চাই।’
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচিত হলে চার জেলার মানুষকে দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে তার সরকার।
এ সময় মঞ্চে চার জেলার ২৪ জন বিএনপি প্রার্থীকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন তারেক রহমান। এই ২৪ প্রার্থীর প্রত্যেকের হাতে ছিল ধানের ছড়া। তাদের প্রত্যেককে বিজয়ী করতে স্থানীয় ভোটারদের আহ্বান জানান তারেক রহমান।
মুসলমান হলে ভোটের দিন তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে বিএনপির বিজয়ের জন্য দোয়া চাইতে অনুরোধ করেন বিএনপি প্রধান। এরপর ফজরের নামাজ পড়ে, অন্য ধর্মের মানুষদের দিনের প্রথম প্রার্থনা শেষে সরাসরি ভোটকেন্দ্রে চলে যেতে পরামর্শ দেন তিনি। এমনকি ভোট দেওয়ার পরও কেন্দ্র ছেড়ে চলে না গিয়ে, ভোট পাহারা দিতেও অনুরোধ করেন তারেক।
নিজের বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গে যেমন টানেন, তেমনি টানেন চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের কথাও। দেশের প্রয়োজনে সবসময় প্রস্তুত থাকার কথা বলেন তিনি। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনেও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে মিলে ভোট দেওয়ার ও ভোট রক্ষা করার আহ্বান জানান তিনি।
বিএনপি চেয়ারম্যানের এ নির্বাচনী জনসভায় দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের ঢল নামে। এটি তারেক রহমানের পঞ্চম নির্বাচনী জনসভা।
তারেক রহমান উপস্থিত হওয়ার আগেই নগরীর সার্কিট হাউস মাঠে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা নেতাকর্মী ও সমর্থকদের জমায়েতে মাঠ কানায় কানায় ভরে ওঠে।
আনুষ্ঠানিকভাবে দুপুর ২টায় জনসভা শুরু হয়। মঙ্গলবার সকাল থেকেই খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা জনসভাস্থলে উপস্থিত হতে থাকেন। ময়মনসিংহ ছাড়াও জামালপুর, শেরপুর ও নেত্রকোনা জেলা থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে মাঠে জড়ো হন।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিকাল সোয়া ৪টার দিকে মঞ্চে উপস্থিত হন। তিনি নগরীর সার্কিট হাউস মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।
এদিকে, জনসভাকে ঘিরে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আইনশৃঙ্ঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সকাল থেকেই মাঠের আশপাশে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা যায়, যা সময়ের সঙ্গে বাড়তে থাকে। নেতাকর্মীরা জানান, তাদের চেয়ারম্যানকে কাছ থেকে একনজর দেখার আশায় আগেভাগেই তারা মাঠে উপস্থিত হয়েছেন।
ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন বাবুর সভাপতিত্বে এবং বিএনপির সদস্যসচিব রুকনুজ্জামান সরকার ও ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেনের সঞ্চালনায় জনসভায় বক্তব্য দেন বিএনপির সংসদ প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নেতারা।
সভায় আরও বক্তব্য দেন সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, লুৎফুজ্জামান বাবর, চৌধুরী আব্দুল্লাহ ফারুক, অ্যাডভোকেট আরিফা জেসমিন নাহিন, রাকিবুল ইসলাম রাকিব, শামসুজ্জামান মেহেদী, নিলোফার চৌধুরী মনি, আব্দুল বারী ড্যানী, সিরাজুল ইসলাম, আফজাল এইচ খান, ওয়ারেস আলী মামুন, আবু ওয়াহাব আকন্দ, মাহাবুবুর রহমান লিটন, জাকির হোসেন বাবলু, মোতাহার হোসেন তালুকদার, ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন, শামিম তালুকদার, সানসিলা জেবরিং পিয়াংকা, মাহমুদুল হক রুবেল, ফখরুদ্দিন আহমেদ বাচ্চু, আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, আনোয়ারুল হক, আবু তাহের তালুকদার, রফিকুল ইসলাম হিলালী, সুলতান মাহমুদ বাবু, আকতারুল আলম ফারুক, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু, ইয়াসির খান চৌধুরী, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল ও ফাহিম চৌধুরী প্রমুখ।


