কেপ ভার্দের গোলরক্ষকের মাকে যুক্তরাষ্ট্রে আনছে মার্কিন প্রশাসন

কেপ ভার্দের গোলরক্ষকের মাকে যুক্তরাষ্ট্রে আনছে মার্কিন প্রশাসন
সোমবার আটলান্টায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফুটবলের এইচ গ্রুপের ম্যাচে স্পেন ও কেপ ভার্দের মধ্যকার খেলা শেষে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজেনিয়া (বামে)। ছবি: এপি/ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দেশগুলোর নাগরিক এবং ভিসার শর্ত পূরণ করা ক্রীড়াবিদ ও দলীয় সদস্যদের জন্য বন্ডের শর্ত মওকুফ করা হবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।

দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার মাকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার চেষ্টা চলছে, যাতে তিনি ছেলের বিশ্বকাপ খেলা দেখতে পারেন।

সোমবার স্পেনের বিপক্ষে কেপ ভার্দের চমকপ্রদ ড্রয়ের পর ভোজেনিয়া আক্ষেপ করে বলেছিলেন, তার মা ম্যাচটি দেখতে আসতে পারেননি। ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় বন্ডের অর্থ সময়মতো দিতে না পারাই ছিল এর মূল কারণ।

ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের আবেগঘন কণ্ঠে ভোজিনহা বলেন, ‘ভিসার কারণে তিনি এখানে আসতে পারেননি… ভিসার জন্য যে অর্থ আমাদের দিতে হয়, সেটির কারণে। আমরা সময়মতো সেটি করতে পারিনি এবং আমি চাই তিনি এখানে থাকুন।’

কেপ ভার্দে বিশ্বের সেই ৫০টি দেশের একটি, যাদের নাগরিকদের ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হয়। এই দেশগুলোর নাগরিকদের বিরুদ্ধে ভিসার মেয়াদ শেষেও যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যাওয়ার উচ্চহারের অভিযোগ থাকায় এই নিয়ম করা হয়েছিল।

ভোজেনিয়ার মন্তব্য গণমাধ্যমে আসার পর বিষয়টি মার্কিন প্রশাসনের নজরে আসে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, খেলোয়াড়টির মায়ের কোনো ভিসা আবেদনের নথি এই মুহূর্তে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে নেই।

তিনি স্পষ্ট করেন, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ‘সব খেলোয়াড়ের স্বজনদের জন্য’ এই বন্ডের শর্ত এমনিতেও মওকুফ করা হয়ে থাকে।

খেলোয়াড়দের সব স্বজন এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য। তাই ভিসাসংক্রান্ত সহায়তার জন্য মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এখন সক্রিয়ভাবে এই খেলোয়াড়ের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।

আরও পড়ুন

অবশ্য এই বিষয়ে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, ভোজেনিয়ার মায়ের বর্তমানে কোনো বৈধ পাসপোর্টই নেই। তিনি এখন একটি নতুন পাসপোর্ট সংগ্রহের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের ওয়েবসাইটে আগেই উল্লেখ করেছে, ‘বিশ্বকাপ ২০২৬-এ অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর নাগরিক এবং ভিসার সব শর্ত পূরণ করতে সক্ষম ক্রীড়াবিদ ও দলের সদস্যদের–যার মধ্যে কোচ, প্রয়োজনীয় সহায়ক কর্মী এবং নিকটাত্মীয়রা অন্তর্ভুক্ত–জন্য বন্ডের শর্ত মওকুফ করা হবে।’

ভোজেনিয়ার জন্য এটি যেন এক ঝড়ো উত্থানের রূপকথা। ৪০ বছর বয়সী এই কেপ ভার্দিয়ান ফুটবলার খেলেন পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের একটি ক্লাবে। অথচ বিশ্বমঞ্চে স্পেনের বিপক্ষে তিনি একাই সাতটি নিশ্চিত গোল আটকে দেন।

টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট স্পেনের আক্রমণভাগকে স্তব্ধ করে দিয়ে, দেশের ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচেই কোনো গোল হজম করেননি এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।

অনেকে ধারণা করেছিলেন, ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেনের সামনে কেপ ভার্দে হয়তো বিধ্বস্ত হবে; যেমনটি গত রবিবার কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারিয়ে প্রমাণ করেছিল জার্মানি।

কিন্তু ভোজেনিয়া ও তার রক্ষণভাগ পুরো ৯০ মিনিট ধরে স্পেনের তারকাবহুল আক্রমণকে হতাশ করে রাখেন। শেষ পর্যন্ত তারা কেপ ভার্দের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে ঐতিহাসিক ফলাফলটি অর্জন করেন।

বিস্ময়কর এই ফলাফল এবং হঠাৎ পাওয়া ব্যাপক মনোযোগের বিষয়ে ভোজিনহার প্রতিক্রিয়া কেমন, তা সিএনএনের আমান্ডা ডেভিসের আলোচনায় উঠে এসেছে। মাঠের এই পারফরম্যান্স দিয়ে ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক এখন বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় জয় করছেন।

৫ লাখ ৩০ হাজার জনসংখ্যার দেশ কেপ ভার্দে এখন এই ঐতিহাসিক সাফল্য উদ্‌যাপন করছে। তাদের এই অভূতপূর্ব আনন্দে শামিল হয়েছে বিশ্বের বহু প্রান্তের মানুষও। ফলে রাতারাতি এই গোলরক্ষকের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী হতে শুরু করেছে।

ব্রাজিলের একটি সম্প্রচারমাধ্যমে ভোজেনিয়াকে নিয়ে প্রচারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো ঝড় উঠেছে। তার অনুসারীর সংখ্যা মাত্র ৫০ হাজার থেকে অবিশ্বাস্য গতিতে বেড়ে মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত ৯৭ লাখেরও বেশি হয়ে গেছে।

ইতিহাস গড়ার পর কেপ ভার্দে এখন পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বাংলাদেশ সময় আগামী শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় মিয়ামিতে তারা শক্তিশালী উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad