দেশের প্রতিটি জেলা ও প্রধান শহরকে সমন্বিত রেল নেটওয়ার্কের আওতায় এনে রেলসেবা সম্প্রসারণ এবং প্রধান প্রধান রুটে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, রেলপথে যাতায়াতের সময় কমানো, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন প্রবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার বিকালে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে দেশের সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি রেল খাতের আধুনিকায়নেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি জানান, রেলওয়ে মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী বাংলাদেশ রেলওয়েকে জাতীয় পরিবহন ব্যবস্থার মূল মেরুদণ্ড হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ চলছে। এ পরিকল্পনার আওতায় পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি জেলা ও প্রধান শহরের দোরগোড়ায় রেলসেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বল্পমেয়াদি (২০২৬-২৭), মধ্যমেয়াদি (২০২৭-২০৩০) এবং দীর্ঘমেয়াদি (২০৩১-২০৪৫) কর্মপরিকল্পনার আওতায় মোট ২৪টি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পুরো দেশের রেল নেটওয়ার্ককে ধাপে ধাপে ডুয়েলগেজে রূপান্তরের কাজ চলছে, যাতে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, রেলযাত্রাকে আরও দ্রুত, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব করতে দেশের প্রধান প্রধান রুটে ইলেকট্রিক ট্র্যাকশন চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে জ্বালানি ব্যয়, যাত্রার সময় ও পরিবেশ দূষণ কমবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, রেলসেবার চাহিদা বিবেচনায় আন্তঃনগর ও কমিউটার ট্রেনের সংখ্যাও পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী স্বল্পমেয়াদে তিনটি আন্তঃনগর ও ১০টি কমিউটার ট্রেন, মধ্যমেয়াদে ১৫টি আন্তঃনগর ও ১৬টি কমিউটার ট্রেন এবং দীর্ঘমেয়াদে ১০৩টি আন্তঃনগর ও ৮৫টি কমিউটার ট্রেন যুক্ত করার জন্য প্রকল্প নেওয়া হবে।
সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় মহাসড়কগুলোকে এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিডে রূপান্তর, মাল্টিমোডাল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সব শ্রেণির মহাসড়কে ওভারলোড নিয়ন্ত্রণে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং স্মার্ট মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। ঢাকার ওপর চাপ কমাতে রিং রোড এবং রেডিয়াল রোড নেটওয়ার্ক তৈরি এবং যানজটপূর্ণ ইন্টারসেকশনগুলোতে প্রয়োজনীয় স্ট্রাকচার (যেমন-ওভারপাস, আন্ডারপাস) নির্মাণ করে নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্মাণাধীন ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ এবং ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পঞ্চবটি হতে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও দোতলা রাস্তা নির্মাণ প্রকল্প, কচুয়া-বেতাগী-পটুয়াখালী-লোহালিয়া-কালাইয়া সড়কে পায়রা নদীর ওপর ১ হাজার ৬৯০ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণ প্রকল্প, মতলব উত্তর-গজারিয়া সড়কে মেঘনা-ধনাগোদা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ প্রকল্প চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, যমুনা নদীর ওপর দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণ প্রকল্প, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া অবস্থানে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু, বরিশাল-ভোলা সড়কে কালাবদর ও তেঁতুলিয়া নদীর ওপর সেতু নির্মাণ, ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, শরীয়তপুর-চাঁদপুর সড়কে মেঘনা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ, পিপিপি ভিত্তিতে ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, ধলেশ্বরী নদীর ওপর দ্বিতীয় মুক্তারপুর সেতু নির্মাণ, ভুলতা-আড়াইহাজার-বাঞ্ছারামপুর সড়কে মেঘনা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় রয়েছে।


