মাগুরায় শিশু রাজিয়া (১৫) ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলার আসামি হাসান শেখকে (২৮) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। সোমবার দুপুরে মাগুরা জেলা ও দায়রা জজ আদালত এই রায় দেয়।
সাজাপ্রাপ্ত হাসান শেখ শ্রীপুর উপজেলার শ্রীকোল গ্রামের ফজলু শেখের ছেলে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৭ মার্চ শ্রীপুর উপজেলার শ্রীকোল গ্রামের কুমার নদের তীরে একটি পেঁপে বাগানের পাশে বাঁশ ঝাড়ের নিচ থেকে শিশু রাজিয়া খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনায় শিশুটির বাবা মিকিজ শেখ ২০২২ সালের ১৯ মার্চ বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় একটি মামলা করেন।
শিশুর মা ছবিরন নেছা সংবাদ মাধ্যমকে জানান, ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী রাজিয়া ঘটনার দিন স্কুল থেকে ফিরে বিকালে বাড়ির পাশের একটি জমিতে রসুন তুলতে বের হলে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরদিন পেঁপে বাগানের পাশে বাঁশ ঝাড়ের নিচে তার মরদেহ পাওয়া যায়। মামলায় হাসান শেখকে আসামি করা হয়।
এদিকে ৪ বছর পরে মামলার রায়ে সন্তুোষ জানিয়েছেন নিহত শিশুর মা। তিনি অবিলম্বে এই রায় কার্যকরের দাবি জানান।
শিশু হত্যার সর্বোচ্চ সাজা ঘোষণায় স্বস্তি জানিয়ে দ্রুত আসামির ফাঁসি কার্যকরের দাবি করেছে মাগুরা জেলা মহিলা পরিষদের সভাপতি আপনি জামান। তিনি জানান, ‘ওই ঘটনার পর থেকে আমরা ভুক্তভোগীর বাড়ি ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং মাগুরায় মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছি। ৪ বছর পরে হলেও আসামির ফাঁসির আদেশ হয়েছে। তবে দ্রুত এই আদেশ কার্যকর দেখতে চাই আমরা।’
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘ তদন্ত ও সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে হাসান শেখ দোষী প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে। এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট, রায়টি দ্রুত কার্যকর হবে বলে আশা করি।’
আসামির আইনজীবী মনির হোসেন বাবলু রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।


