লালমনিরহাট সিভিল সার্জন কার্যালয় ও রেলওয়ে বিভাগসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে দুর্নীতির প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার মানববন্ধন করেছে ‘দুর্নীতিমুক্ত লালমনিরহাট চাই বাস্তবায়ন কমিটি’। তবে শহরের প্রাণকেন্দ্র মিশন মোড়ে এই মানববন্ধনে দুর্নীতির দায়ে বরখাস্ত হওয়া এক কর্মকর্তার অংশগ্রহণ নিয়ে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন লালমনিরহাট কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) বর্তমান অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. আইনুল হক। মানববন্ধনে তার উপস্থিতি দেখে উপস্থিত জনতা ও সাংবাদিকদের মাঝে গুঞ্জন শুরু হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২১ সালে দিনাজপুর টিটিসিতে থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল ও কর্নার আধুনিকায়নের বরাদ্দ দিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে বাথরুম নির্মাণ ও ইলেকট্রিক সাবস্টেশন সংস্কারের অভিযোগ ওঠে। এছাড়া সেমিনার না করে ভুয়া বিল তৈরি এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের দায়ে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছিল প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। বর্তমানে লালমনিরহাটে যোগদানের পরও তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির একাধিক খবর প্রকাশ হয়েছে।
এমন একজন বিতর্কিত ব্যক্তির দুর্নীতি-বিরোধী কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনা চলছে। লালমনিরহাটের সাধারণ নাগরিক আরিফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ দাঁড়াবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মানববন্ধনে একজন স্বীকৃত দুর্নীতিবাজ অংশ নিয়েছেন। এমন ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাটা হাস্যকর ও লজ্জাজনক।
লালমনিরহাটের সিনিয়র সাংবাদিক জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না বলেন, যিনি নিজে দুর্নীতির দায়ে বরখাস্ত হয়েছিলেন এবং যার বিরুদ্ধে এখনও নানা অভিযোগ রয়েছে, তিনি যখন দুর্নীতিমুক্ত জেলা গড়ার দাবিতে দাঁড়ান, তখন পুরো বিষয়টিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
এ বিষয়ে মানববন্ধন আয়োজক কমিটির সভাপতি জাকিউল হাসান সিদ্দিক রাসেল বলেন, টিটিসি অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আগে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ ছিল কি না, তা তাদের জানা নেই। ওই কর্মকর্তা নিজেই এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তবে তারা নীতিগতভাবে সকল প্রকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং জড়িতদের কঠোর শাস্তি চান।
উল্লেখ্য, মানববন্ধনে বক্তারা লালমনিরহাট সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে জেঁকে বসা সিন্ডিকেট ও অনিয়ম নির্মূলে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।


